ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ডিমোনা যেখানে দেশটির প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা অবস্থিত আরাদ শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে এটি সবচেয়ে নাটকীয় উত্তেজনার একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আরাদে অন্তত ৮৮ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। শহরের কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ডিমোনায় আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। একাধিক আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় আহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শনিবারের এই হামলা ছিল দেশটির নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে একই দিনের আগের হামলার প্রতিক্রিয়া। চলমান সংঘাতের চতুর্থ সপ্তাহে এ হামলা ‘পাল্টাপাল্টি আঘাত’-এর নতুন ধাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলাকে “কঠিন” পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করে ইরানের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০০-এর বেশি শিশু রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলার সময় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা যায়নি। দমকল বাহিনী জানায়, ডিমোনা ও আরাদে ছোড়া প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে।
তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ডিমোনার শিমোন পেরেস নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টারে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি এবং এলাকায় অস্বাভাবিক তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও শনাক্ত হয়নি। সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে সর্বোচ্চ সামরিক সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিমোনায় অন্তত তিনটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। একটি তিনতলা ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন লেগেছে।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে আশপাশের রামাত নেগেভ অঞ্চলের স্কুলগুলো পরদিন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা তেহরানের মালেক আশতার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উপাদান তৈরি করা হতো।
ইরান জানিয়েছে, একই দিনে তাদের নাতাঞ্জ স্থাপনাও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, যদিও কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েনি।
ডিমোনা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের সহায়তায় গোপনে নির্মিত গবেষণা কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর থেকেই এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে এগোচ্ছে, যার লক্ষ্য প্রতিরোধ সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ভারসাম্য নিশ্চিত করা।








