রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভূমিকা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনে বিজ্ঞান অনুষদ আয়োজিত এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।
বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা ও সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক সাহেদ জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম ও অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর।
দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বাংলাদেশ ও বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২৫০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
প্রথম দিনে একটি মূল প্রবন্ধ ও ২২টি টেকনিক্যাল সেশন উপস্থাপিত হয়। দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার মূল প্রবন্ধসহ ১০টি একাডেমিক সেশনে মোট ৪২৩টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ২০৭টি সরাসরি উপস্থাপন ও ২১৬টি পোস্টার রয়েছে। এছাড়া একটি প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনের সেশনসমূহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবন, ড. মুহাম্মদ কুদরাত-ই-খুদা একাডেমিক ভবন ও ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া একাডেমিক ভবনে অনুষ্ঠিত হবে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, সরকার দেশের সুষম উন্নয়ন ও সেই উন্নয়নকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে সমন্বয় করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে এসব পরিকল্পনার সুফল দৃশ্যমান হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ২৫ হাজার মেগাওয়াটে উত্তীর্ণ হয়েছে। এর ফলে শিল্পক্ষেত্রে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস আছে।
তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার জন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দেশে থেকে বিদেশে সেবা দান করছে। এর মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা যাচ্ছে। সরকারের গৃহিত যেসব পদক্ষেপ আছে সেই প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এক যুগান্তকারী প্রভাব পড়বে।
উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব শুরুতে আমাদের কাছে একটি কথার কথা হিসেবে এলেও বাস্তবক্ষেত্রে এটি আজ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সরকারের গৃহিত বিভিন্ন পদক্ষেপ বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরন্তর গবেষণা ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও কারিগরী শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহকে উচ্চশিক্ষায় সংযোজন ইত্যাদির মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের অংশগ্রহণ দৃশ্যমান হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মেলনের সহ-আহ্বায়ক পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক এম ছায়েদুর রহমান। সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম খান, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক সাবিরুজ্জামান ও ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক তারান্নুম।







