সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম আলোচিত ডায়েট পদ্ধতি ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’। এটি এমন একটি খাদ্যাভ্যাস, যেখানে কী খাওয়া হচ্ছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় কখন খাওয়া হচ্ছে। তবে নতুন এক গবেষণায় এই জনপ্রিয় ডায়েট পদ্ধতির বিপজ্জনক দিকটি সামনে এসেছে, বিশেষ করে হৃদরোগের ঝুঁকির প্রসঙ্গে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গবেষণাটি সম্প্রতি ‘ডায়াবেটিস অ্যান্ড মেটাবলিক সিনড্রোম: ক্লিনিকাল রিসার্চ অ্যান্ড রিভিউস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের পরিচালিত এক বড় পরিসরের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে ৮ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণ করেন, তাদের হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি ১৩৫ শতাংশ বেশি তাদের তুলনায় যারা ১২-১৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণ করেন।
গবেষণায় ৮ বছর ধরে ১৯ হাজারেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক যুক্তরাষ্ট্রেরের নাগরিকদের খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের দুটি দিনে খাওয়ার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে বিজ্ঞানীরা তাদের গড় ‘ইটিং উইন্ডো’ নির্ধারণ করেন।
সবার জন্য নয় ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা ধূমপায়ী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিংবা পূর্বেই হৃদরোগে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ের মধ্যে খাবার খাওয়ার অভ্যাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।
শাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক ও গবেষণার প্রধান লেখক ভিক্টর ওয়েনজি ঝং বলেন, খুব অল্প সময়ের জন্য খাবার খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে, এটি আমাদের জন্য বিস্ময়কর একটি ফলাফল।
গবেষকরা অবশ্য জানিয়েছেন, এই গবেষণা কোনো কারণ-প্রভাব সম্পর্ক স্থাপন করে না। অর্থাৎ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং সরাসরি হৃদরোগের কারণ এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে তথ্য পর্যাপ্তভাবে ইঙ্গিত করছে যে, এটি ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে।
সাধারণত, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং পদ্ধতিতে প্রতিদিন খাবার গ্রহণ ৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, যেমন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এর বাইরে পুরো ১৬ ঘণ্টা উপবাসে থাকতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ রয়েছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ডায়েট শুরু করা উচিত নয়। এছাড়া নিয়মিত ধূমপান করেন এমন ব্যক্তিদের জন্যও এটি মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।







