টানা আন্দোলনের মুখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শীর্ষপদে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. সুচিতা শরমিনকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও ক্যামিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফসসাল মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এএসএম কাসেম স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত তিনজন শিক্ষক নিজ নিজ মূলপদে যোগদান করবেন।
এই রদবদলের পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের টানা ২৮ দিনের আন্দোলন। প্রথমে ২২ দফা, পরে ৪ দফা এবং শেষপর্যন্ত উপাচার্য অপসারণের একদফা দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, উপাচার্যের বাসভবনে তালা লাগানো হয় এবং একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
চূড়ান্ত পর্যায়ে সোমবার রাতে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন শুরু করলে পাঁচজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা, ফলে সড়কে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। রাত ৯টায় অবরোধ প্রত্যাহারের কিছু সময় পরেই উপাচার্য ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অব্যাহতির খবর আসে।
এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আনন্দ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, “দীর্ঘ আন্দোলনের ফল মিলেছে। আমরা ভিসি, প্রোভিসি ও ট্রেজারার অপসারণের দাবি জানিয়েছিলাম, সরকার তা মেনে নিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের নিয়োগ আমাদের আশা জাগায়।”
নতুন প্রশাসনের অধীনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।







