সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পের টেকসই উন্নয়নে সব পক্ষের কার্যকর অংশগ্রহণ জরুরি বলে মনে করছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। চামড়াখাতে এই সমন্বয়হীনতা দূর করতে ১৫ আগস্টের মধ্যে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠন করা হচ্ছে ‘ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ’ বা টিসিসি।
সোমবার (৭ জুলাই) ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ গঠনের উদ্যোগে রাজধানীর ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট-এ ওশি ফাউন্ডেশন ও লেদার ডেভেলপমেন্ট ফোরামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ. এইচ. এম. শফিকুজ্জামান বলেন, চামড়া শিল্প তৈরি পোশাক খাতের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আমাদের এই খাতের সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা এখনও এই খাতে অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য মূল্য সংযোজন করতে পারিনি, এটি আমাদের ব্যর্থতা। চামড়া শিল্পে একটি কার্যকর টিসিসি গঠনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে ১৫ আগস্টের মধ্যে টিসিসি গঠন করার ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ. এইচ. এম. শফিকুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় টিসিসি এবং খাতভিত্তিক টিসিসি এক নয়। গঠন প্রক্রিয়া ও কার্যপরিধি নিয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা থাকতে হবে। মালিক, শ্রমিক ও সরকারের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে খাতভিত্তিক টিসিসি গঠন করতে হবে।
চামড়া খাতের কাজের পরিধি বিবেচনা করলে শুধু শ্রম মন্ত্রণালয় নয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকেও টিসিসির সাথে সংযুক্ত করার কথা বলেন লেদার ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সমন্বয়কারী ফিরোজ আলম।
অনুষ্ঠানে চামড়া শিল্পে কার্যকর টিসিসি প্রণয়নে টার্মস অব রেফারেন্স বা টিওআর প্রস্তুত করা জরুরি উল্লেখ করে কার্যকর পদক্ষেপে জোর দেন কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেল অতিরিক্ত সচিব ওমর মোহাম্মদ ইমরুল মহসিন।
চামড়া শিল্পে বিদ্যমান সঙ্কট উত্তরণে আদর্শ টিসিসি গঠনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান ওশি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ আর চৌধুরী রিপন। তিনি বলেন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা যেন গঠন ও কাঠামো নির্ধারণে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
‘বিল্ডিং এ সাসটেইনেবল লেদার সেক্টর ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন ও সলিডার সুইসের তত্বাবধানে এই আয়োজনের সহযোগী প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস ও গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র।







