১৫ বছরের শাসনামলে ভারতের নির্ভরযোগ্য মিত্র ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দেশ ত্যাগের প্রায় এক মাস হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে তিনি অল্প সময়ের জন্য ভারতে থাকবেন বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আশ্রয় নেওয়ার জন্য তার প্রচেষ্টা এখনও পর্যন্ত সফল হয়নি। তাই ভারতে তার উপস্থিতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশটির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
আজ ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিবিসিতে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের কাছে বাংলাদেশ শুধু প্রতিবেশী দেশ নয়। কৌশলগত অংশীদার এবং ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর, ভারতের সাথে বেশ কয়েকটি সীমান্ত বিরোধ বন্ধুত্বপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করেছেন। তার ১৫ বছরের শাসনামলে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক এবং সংযোগের বিকাশ ঘটে। ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের মাধ্যমে ভারত সড়ক, নদী এবং ট্রেন চলাচলের সুযোগ পেয়েছে। তাই শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক ধরে রাখাটা ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জের।
২০১০ সাল থেকে ভারত অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশকে ৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঋণ দিয়েছে। শেখ হাসিনার আকস্মিক প্রস্থান মানে দেশটিকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে যাতে এই অর্থ নষ্ট না হয়। এই বিষয়ে বাংলাদেশের সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেছেন, এটি এই অর্থে একটি ধাক্কা যে আমাদের আশেপাশে যেকোন অশান্তি সবসময়ই অবাঞ্ছিত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাথেই কাজ করবে কারণ এর কোন বিকল্প নেই এবং তারা অভ্যন্তরীণভাবে যা করবে তা আপনি নির্ধারণ করতে পারবেন না।
তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে শুভেচ্ছা পৌঁছাতে ভারত সরকার কোন সময় নষ্ট করেনি। প্রধান উপদেষ্টা ড। মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে টেলিফোনে আলাপচারিতা সেরেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদিও বোঝা যাচ্ছে, গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রতি অটল সমর্থনের জন্য বাংলাদেশিদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ভারতের কিছুটা সময় লাগবে।








