বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় নাগরিক ব্যান্ড শিরোনামহীন। বাংলা ভাষাভাষি মানুষের কাছে দলটির প্রায় সব গানই পেয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। প্রতিষ্ঠার পঁচিশ বছরে চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবার ভারতে কনসার্ট করে দলটি। আর প্রথম কনসার্টেই সাড়া ফেলে দেয় কলকাতায়।
ভারতে প্রথম কনসার্টে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বারের মতো আবারও দেশটির পশ্চিমবঙ্গের মেদেনীপুর বিভাগের বাঁকুড়া জেলায় কনসার্টে যোগ দিতে যাচ্ছে শিরোনামহীন। চ্যানেল আই অনলাইনকে এমনটাই জানালেন শিরোনামহীন এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, গীতিকার, সুরকার ও বেইজ গিটারিস্ট জিয়াউর রহমান জিয়া। তিনি জানান, রবিবার (১৩ নভেম্বর) কনসার্টে যোগ দিতে এদিন ভোরের ফ্লাইটেই কলকাতার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে শিরোনামহীনের সদস্যরা।
ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বারের মতো ভারতে গাইতে যাওয়ার প্রসঙ্গে জিয়া বলেন, শিরোনামহীন প্রতিষ্ঠার পর গেল মে মাসে আমরা প্রথমবার ভারতে পারফর্ম করেছি। নিঃসন্দেহে এটি ছিলো আমাদের এবং ভারতীয় শ্রোতা দর্শকদের জন্য বড় একটি সুযোগ। ভারতীয় শ্রোতা দর্শকের অভাবনীয় সাড়ায় আমরাও অভিভূত হই। প্রথম কনসার্টের ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় দেশটিতে গান করার আমন্ত্রণ নিশ্চয় অন্যরকম ভালো লাগার।
জিয়া জানান, এবার কলকাতা থেকে প্রায় দুইশত কিলোমিটার দূরে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজে লাইভ পারফর্ম করবে শিরোনামহীন। এল আর বি ব্যান্ডের ম্যানেজার এবং সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার শামিম আহমেদও সফরে যুক্ত হয়েছেন ‘শিরোনামহীন’ এর সাথে।
ব্যান্ডের সদস্যরা জানান, শিরোনামহীন যেহেতু বাংলায় গান পরিবেশন করে,পশ্চিমবঙ্গের ভাষা বাংলা বিধায় শ্রোতাদের গান শোনানোর অভিজ্ঞতা আমাদের কাছে অনন্য। এর আগে কলকাতায় আমাদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়েছেন দর্শক শ্রোতারা। পারফরম্যান্স এর আগে আমাদের জানা ছিলো না, আমাদের গান তারা এতোটা সাদরে গ্রহণ করবে! আশা করছি, বাঁকুড়াতেও আমরা সুন্দর কিছু মুহূর্তের স্মৃতি নিয়ে ফিরবো।
জিয়াউর রহমান জিয়া আরও বলেন,‘পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি ব্যান্ডের শ্রোতা অনেক। বাংলা গানে তারা বাংলাদেশি ব্যান্ডের গানগুলোকেই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রাখে। বাংলাদেশি ব্যান্ড জনপ্রিয়তায় বাংলাদেশের চেয়ে কোনো অংশেই সেখানে কম নয়। আমরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে, ফেসবুক পেইজে প্রচুর সাড়া পাই এবং পারফরম্যান্স এর জন্য আমন্ত্রণ পাই। যদিও আর্টিস্টদের জন্য যাতায়াতের পারমিশন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত জটিলতায় অনেক ক্ষেত্রেই সাড়া দিতে পারি না। ইউরোপের ওপেন বর্ডার সংষ্কৃতি থাকলে আমাদের আরো অনেক বেশি পারফরম্যান্স করতে হতো পশ্চিমবঙ্গে।’
ব্যান্ডের অন্যতম কম্পোজার কাজী শাফিন আহমেদ বলেন, ‘গান শোনাবার পরিধি বড় হওয়া আমাদের সংষ্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে। বিশ্বের দরবারে আমাদের দেশের সম্মানকে বড় করে। আমরা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় গান শোনাতে চাই, মিউজিককে ছড়িয়ে দিতে চাই।’
দলের ভোকালিস্ট শেখ ইসতিয়াক বলেন, ‘এবার সফর শেষে, দেশে ফিরেই আমাদের সপ্তম অ্যালবাম প্রকাশ করার ইচ্ছে আছে। যা একটি ডাবল অ্যালবাম হিসেবে কালেক্টরদের জন্য রিলিজ হবে। এখানে এপিসোড ১ ও ২ দুটো ভলিউম থাকবে।’
কিবোর্ড প্লেয়ার সায়মন চৌধুরী জানান, ‘এই অ্যালবামটি লাইভ অ্যালবাম। গ্লোবাল মিউজিকে লাইভ অ্যালবামের প্রচলন সচরাচর হলেও আমাদের দেশে খুব একটা নেই। ইতিপূর্বে, এল.আর.বি এর ডাবল অ্যালবাম এবং পরবর্তীতে লাইভ অ্যালবাম ছাড়া এমন উদাহরণ এদেশের মিউজিকে আমি দেখি না। আমাদের কাজ শেষ, শুধু সাউন্ড প্রোডাকশন, গ্রাফিক্সের কাজ চলেছে। এখন শুধু রিলিজের অপেক্ষা। আমরা, পাশাপাশি আমাদের মৌলিক অ্যালবামের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
ব্যান্ডের গিটারিস্ট দিপু সিনহা বলেন, ‘ট্যুর, কনসার্ট, প্র্যাক্টিস, রেকর্ডিং এ ব্যস্ত সময় পাড়ি দিচ্ছি। মিউজিসিয়ানদের জীবন এমনটাই প্রত্যাশা করে সবাই। এদেশে, আরো মিউজিক্যাল পরিবেশ এবং সুযোগ সৃষ্টি হওয়া উচিত, যাতে সব মিউজিসিয়ান এরকম ব্যস্ত হতে পারে।।’






