১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমবার সেমিফাইনাল খেলা সাউথ আফ্রিকা ৩২ বছরের অপেক্ষার ইতি টেনে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নেমেছিল। টানা আট জয়ে অসাধারণ একটা আসর কাটানোর পর ফাইনালে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও আশাভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হয়েছে। ভারতের কাছে তীরে এসে তরী ডোবার হতাশায় নিমজ্জিত এইডেন মার্করাম। প্রোটিয়া অধিনায়ক অবশ্য দল নিয়ে গর্বিত।
জয়ের জন্য ১৭৭ রান তাড়ায় ৬ উইকেট হাতে নিয়ে পাঁচ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ৩০ রান। সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ৭ রানে হেরে হাতছাড়া করেছে শিরোপা। এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষ ওভারে স্নায়ুচাপ উতরে একাধিক ম্যাচে জিতেছিল দলটি। ফাইনালে গিয়ে আর পারল না।
চ্যাম্পিয়ন হতে না পারায় মার্করামের কথায় ছিল হাহাকারের সুর। বললেন, ‘খুব খারাপ লাগছে। আমাদের ভালো একটা টুর্নামেন্ট কেটেছে। হারের পর দলটার নিজেদের কাজ নিয়ে ইতিবাচক কিছু ভাবতে সময় লাগবে। তবে এই মুহূর্তে অবশ্যই এটা আমাদের অনেক কষ্ট দিচ্ছে।’
‘আমি এই দলের খেলোয়াড় এবং দলের সাথে জড়িত সবাইকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত। আশা করি সত্যিই ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা হবে। তবে এটা নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, সাউথ আফ্রিকানরা বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেনো, ভীষণ লড়াকু মানসিকতার। তারা অনেক শ্রদ্ধাশীল এবং লড়াই ছাড়া হাল ছাড়ে না।’
ফাইনালে ভারতের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপকে যে চ্যালেঞ্জটা ছুঁড়ে দেয়া সম্ভব হয়েছিল, তা প্রশংসনীয়। বিশ্বকাপ জেতার এমন সুযোগ বারবার আসে না, সেটা অনুধাবন করছেন মার্করাম।
‘আমার মনে হয়েছিল তাদের যে স্কোরে আমরা বেধে ফেলেছিলাম, সেটা তাড়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। ব্যাটাররাও খুবই ভালো খেলেছে। এ কারণে ম্যাচটা টানটান উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় চলে এসেছিল। সত্যিই খুব ভালো একটা ক্রিকেট ম্যাচ হয়েছে। এই বিশ্বকাপেই আমরা নিজেদের অনেক ম্যাচে দেখেছি, শেষ বলটি না হওয়া পর্যন্ত এটি কখনই শেষ হয়ে যায় না।’
‘রানতাড়ায় আমরা কখনোই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করিনি। সবসময় স্কোরবোর্ডের চাপের একটা বিষয় থাকে। বিশেষ করে শেষদিকে কিছু ঘটনা খুব দ্রুত ঘটে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যে মোড় বদলে যেতে পারে। তবে এটাও বলতে হবে, দুর্দান্ত একটা অবস্থানে পৌঁছেছি। এটাই প্রমাণ করে যে, আমরা যোগ্য ফাইনালিস্ট। ম্যাচটা আমরা জিততেই পারতাম। দুর্ভাগ্যবশত আমরা তা পারিনি।’








