রোহিত শর্মাকে বাদ দিয়ে আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের নেতৃত্ব হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে দেয়ার পর থেকে ঘটনার সূত্রপাত। একের পর এক ম্যাচ হারার দায় অধিনায়ক হিসেবে পেস-অলরাউন্ডারের কাঁধে পড়ছিল। মাঠের বাইরের নানা ঘটনাতে গত ছয়মাস তার জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। নিজ দেশের দর্শকদের দুয়োর শিকার হন। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা নিয়েও চলে সমালোচনা। পাহাড়সম চাপ সামলে বিশ্বকাপের ফাইনালে বল হাতে রেখেছেন দারুণ ভূমিকা। প্রায় হারতে বসা ম্যাচে মোড় ঘুরিয়ে হার্দিক এখন ভারতের শিরোপা জয়ের অন্যতম চরিত্র।
সাউথ আফ্রিকার জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৪ বলে ২৬ রান, ম্যাচ থেকে ভারত তখন ছিটকেই যাচ্ছিল। ফিফটি পাওয়া হেইনরিখ ক্লাসেন ও ডেভিড মিলারের জুটি জমে যায়। নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে ক্লাসেনকে ফিরিয়ে টিম ইন্ডিয়ার ডেরায় স্বস্তি ফেরান হার্দিক। স্নায়ুচাপ সামলে শেষ ওভারে দুই উইকেট নিয়ে দলকে ট্রফি এনে দিতে তার কৃতিত্ব অপরিসীম।
ম্যাচ শেষে হার্দিক বলেছেন, ‘আমার জন্য এটা অনেক অর্থবহ। আবেগ সামলাতে পারছি না। আমরা অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। তবে অতীতে কিছু বিষয় ঠিকঠাক কাজ করছিল না। কিন্তু আজ পুরো জাতি যা দেখতে চেয়েছে, আমরা তা করতে পেয়েছি। এটা আমার জন্য আরও বিশেষ কিছু। সবাই জানে গত ছয়টা মাস আমার জন্য কেমন ছিল। ব্যাপারগুলো ভীষণ অন্যায় ছিল। আমি একটা কথাও বলিনি। জানতাম, যদি কঠোর পরিশ্রম করতে থাকি তবে আমি আলো ছড়াতে এবং আমার কাজটা করতে পারব। এই ধরনের সুযোগ পাওয়া অর্জনকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।’
১৭৭ রানের লক্ষ্যে সাউথ আফ্রিকা যেভাবে এগোচ্ছিল, তাতে জয় পাওয়াটা তাদের জন্য হয়ে উঠছিল সময়ের ব্যাপার। হার্দিকের পাশাপাশি জাসপ্রিত বুমরাহ ও পেসার আর্শ্বদীপ সিং চাপের মুখে দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ দৃশ্যের চিত্রনাট্য পাল্টে দেন। কঠিন সময়ে ভারতীয় ক্রিকেটাররা কেউ বিশ্বাস হারাননি বলেই জানালেন হার্দিক।
‘আমরা সবসময় বিশ্বাসটা রেখেছিলাম। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, স্থির থাকা এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরির বিষয় ছিল। শেষ ৫ ওভারের কৃতিত্ব জাসির (বুমরাহ) এবং অন্যান্য বোলারদের। জানতাম, যদি স্থির না থাকি তাহলে আমাকে এটা সহায়তা করবে না। প্রতিটা বলে শতভাগ নিবেদন দিতে চেয়েছি। সবসময় চাপ উপভোগ করেছি।’







