এশিয়া কাপে ফাইনালে শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের উপর তাণ্ডব চালিয়েছেন ভারতের পেসার মোহাম্মদ সিরাজ। ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছেন একাধিক। তার তোপদাগা বোলিংয়ে বিধ্বস্ত হয়ে ৫০ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কা। ১৫.২ ওভারে থেমেছে লঙ্কানদের ইনিংস।
ওয়ানডেতে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়া ইনিংস শ্রীলঙ্কার। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে একবার ৪৩ রানে থেমেছিল লঙ্কানরা, সেটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে তাদের সর্বনিম্ন। একদিনের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানে অলআউটের ইনিংসটি অবশ্য জিম্বাবুয়ের। হারারেতে লঙ্কানদের বিপক্ষে ৩৫ রানে অলআউট হয়েছিল জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে, এশিয়া কাপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছে লঙ্কানদের এই ইনিংসটি। আগের সর্বনিম্ন রান ছিল বাংলাদেশের। ২০০০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮৭ রান করে থেমেছিল টিম টাইগার্স।
রোববার সময়মতো টস হলেও বৃষ্টির কারণে ফাইনালের লড়াই শুরু হতে বিলম্ব হয়েছে। খেলা গড়ালে টস জিতে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখা শ্রীলঙ্কা মহাবিপদে পড়ে। প্রথম ওভারে হারায় উইকেট। পরে চতুর্থ ওভারে রীতিমত তাণ্ডব চালান সিরাজ। সেই ওভারে তুলে নেন ৪ উইকেট। পরে আরও দুটি উইকেটের পান সিরাজ।
শেষপর্যন্ত ৭ ওভারে ২১ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করেন সিরাজ। যা দিয়ে এশিয়া কাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ উইকেট নেয়া অজন্তা মেন্ডিসের সঙ্গে নাম লিখিয়েছেন। ১৩ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন মেন্ডিস।
এশিয়া কাপে পেস বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক এখন সিরাজ। ১৯৯৫ সালে শারজাহতে ভারতের বিপক্ষে ১৯ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি সাবেক আঁকিব জাভেদ।
প্রথম ওভারে ভারতকে সফলতা এনে দেন জাসপ্রীত বুমরাহ। ওভারের তৃতীয় বলে লোকেশ রাহুলের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান কুশল পেরেরাকে। দ্বিতীয় ওভারে বলে আসেন সিরাজ। দুর্দান্ত বোলিংয়ে মেডেন আদায় করে নেন। তৃতীয় ওভারে বুমরাহ খরচ করেন মাত্র এক রান।
চতুর্থ ওভারে লঙ্কান ব্যাটাদের উপর তাণ্ডব চালান সিরাজ। ফেরান ৪ জনকে। ওভারের প্রথম বলে জাদেজার ক্যাচ বানিয়ে ফেরান পাথুম নিশাঙ্কাকে। দ্বিতীয় বলে সিরাজকে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেন সাদিরা সামারাবিক্রমা। পরের বলে লেগ বিফোর হন সাদিরা। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি। চতুর্থ বলে ঈশান কিষাণের ক্যাচ বানিয়ে সিরাজ ফেরান চারিথ আশালাঙ্কাকে। ৮ রানে চতুর্থ ব্যাটারকে হারায় শ্রীলঙ্কা।
পঞ্চম বলে বাউন্ডারি হাঁকান ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। শেষ বলে শিকার হন সিরাজ তাণ্ডবের। লোকেশ রাহুলকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। ১২ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে লঙ্কানবাহিনী।
পঞ্চম ওভার মেডেন আদায় করে নেন বুমরাহ। চাপ কাটিয়ে তোলার আগেই ষষ্ঠ ওভারে বলে এসে নিজের পঞ্চম আঘাত হানেন সিরাজ। ওভারের চতুর্থ বলে দাসুন শানাকাকে ফেরান বোল্ড করে।
সপ্তম উইকেট জুটিতে ২১ রান তোলেন কুশল মেন্ডিস ও দুনিথ ওয়েল্লাগে। ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ষষ্ঠ শিকারের দেখা পান সিরাজ। মেন্ডিস বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে। ৩৩ রানে সপ্তম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ৩৪ বলে ১৭ রান করেন লঙ্কান উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
পরের ওভারে ৪০ রানে অষ্টম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ১২তম ওভারের তৃতীয় বলে লোকেশ রাহুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে হার্দিক পান্ডিয়ার শিকার হন ওয়েল্লাগে। ১৬তম ওভারের প্রথম বলে দলীয় ৫০ রানে লঙ্কানদের নবম ব্যাটারকে ফেরান হার্দিক পান্ডিয়া। প্রমোধ মাধুশানকে ফেরান কোহলির ক্যাচ বানিয়ে। পরের বলে মাথিশা পাথিরানাকে ফিরিয়ে লঙ্কানদের ইনিংস গুটিয়ে দেন হার্দিক।
৭ ওভার বল করে ২১ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সিরাজ। ২.২ ওভার বল করে ৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। বুমরাহ নিয়েছেন একটি উইকেট।








