২৪ এপ্রিল, ১৯৭৩ সালে এইদিনে পৃথিবীতে এসেছিলেন ‘মাস্টার ব্লাস্টার’খ্যাত শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। কিংবদন্তি ব্যাটারের ৫১তম জন্মদিন আজ। ভারতীয় ক্রিকেট মহাতারকার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব উপস্থিতির দেখা মিলছে ভক্তকুলের। দেখা মিলছে ক্রিকেট ছাড়লেও সেই ‘শচীন, শচীন’ শোর একই রয়ে গেছে লিটল মাস্টারকে ঘিরে।
ভারতের সবচেয়ে বড় শহর মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে ২৪ এপ্রিল জন্ম ‘লিটল মাস্টার’ টেন্ডুলকারের। ১৯৮৯ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু ডানহাতি ব্যাটারের। ২০১৩ সালে সবধরনের ক্রিকেট থেকে গ্লাভস খুলে রাখার আগপর্যন্ত অসংখ্য রেকর্ডের মালিক বনেছেন।
টেস্টে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড টেন্ডুলকারের দখলে। মোট ২০০ টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। এরমধ্যে ৩২৯ ইনিংসে ব্যাট করেছেন। সর্বাধিক রানের রেকর্ডও তার দখলে, সাদা পোশাকে রেখে গেছেন ১৫,৯২১ রান। ৫৩.৭৮ গড়ের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসটি তার অপরাজিত ২৪৮ রানের, বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুরে।
টেস্টে সর্বাধিক ম্যাচ ও রানের মতো সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ডও শচীনের দখলে। ২০০ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ৫১টি সেঞ্চুরি রয়েছে তার, ফিফটি ৬৮টি। বৈচিত্র্যময় ক্যারিয়ারে বোলিংয়ে বেশ সমৃদ্ধ না হলেও অফস্পিন করতেন টেন্ডুলকার। ১৪৫ ইনিংসে বল করে নিয়েছেন ৪৬ উইকেট।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারেও সমৃদ্ধ টেন্ডুলকার। সর্বাধিক টেস্ট ম্যাচের মতো সর্বাধিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার। প্রায় দুই যুগের ক্যারিয়ারে ৪৬৩ ওয়ানডে খেলেছেন। যার মধ্যে ব্যাটিং করেছেন ৪৫২ ম্যাচে। ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড শচীনের দখলে।
৪৬৩ ম্যাচের সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারে ওয়ানডেতে সর্বাধিক রানের মালিক টেন্ডুলকার। মাস্টার ব্লাস্টার ৪৪.৮৩ গড়ে ১৮,৪২৬ রান রেখে গেছেন নামের পাশে। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসটি অপরাজিত ২০০ রানের। ২০২৩ সালে ভারতে হওয়া বিশ্বকাপের আগপর্যন্ত ওয়ানডেতে ৪৯টি সেঞ্চুরি নিয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড দখলে রেখেছিলেন। ৫০ সেঞ্চুরি করে বিরাট কোহলি সেটি ছাড়িয়ে গেছেন। ওয়ানডেতে ৯৬টি ফিফটি রয়েছে টেন্ডুলকারের।

টেস্টে বেশি না হলেও ওয়ানডেতে প্রায়ই হাত ঘোরাতেন ডানহাতি স্পিনে। ৪৬৩ ম্যাচের মধ্যে বল করেছেন ২৭০ ম্যাচে। নামের পাশে যুক্ত করেছেন ১৫৪ উইকেট। ম্যাচে চার উইকেট নিয়েছেন চারবার, পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন দুবার। ভারতের হয়ে টি-টুয়েন্টি খেলেছেন মাত্র একটি, নামের পাশে ১০ রান এবং একটি উইকেট।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতো ঘরোয়াতেও রেকর্ড সমৃদ্ধ মহাতারকার। ৩১০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ২৫,৩৯৬ রান করেছেন। গড় ৫৭.৮৪ এবং সর্বোচ্চ ইনিংসটি অপরাজিত ২৪৮ রানের। ৮১টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ফিফটি রয়েছে ১১৬টি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭১ উইকেট রয়েছে তার।

‘টেন্ডল্যা’ সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন লিস্ট এ’তে। ৫৫১ ম্যাচে ৪৫.৫৪ গড়ে ২১,৯৯৯ রান করেছেন। সেঞ্চুরির সংখ্যা ৬০টি এবং ফিফটি ১১৪টি। সর্বাধিক রানের ইনিংসটি অপরাজিত ২০০ রানের। সবচেয়ে বেশি ২০১ উইকেট পেয়েছেন লিস্ট-এ ক্যারিয়ারে। যার মধ্যে চারবার চার উইকেট এবং দুবার পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন।

টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত সফরটি টি-টুয়েন্টিতে। এখানে মাত্র ৯৬ ম্যাচ খেলেছেন। ৩২.৯০ গড়ে ২,৭৯৭ রান করেছেন। যার মধ্যে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি অপরাজিত ১০০। একটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ১৬টি ফিফটি রয়েছে তার। আট ইনিংসে বল করে নিয়েছেন দুটি উইকেট।

ভারতীয় ক্রিকেটের ‘ঈশ্বর’ শচীন সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারে বিশ্বজয়ের পালক যোগ করেছিলেন। ২০১১ সালে ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে ভারত। বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন টেন্ডুলকার। আসরের সহ-আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। ক্রিকেটের অসংখ্য কীর্তিতে নাম লেখানো মহাতারকার জন্মদিন আজ। শুভ জন্মদিন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার।








