এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হতে চলেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার শ্রীলঙ্কার কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বহুল প্রতীক্ষিত এই মহারণ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এর আগে দেখে নেয়া যাক দুদলের পরিসংখ্যানের খতিয়ান।
ভারত-পাকিস্তান বৈরিতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের ইতিহাস যতটা না ক্রিকেটের, তার চেয়েও বেশি ভূ-রাজনীতির। মাঝেমধ্যে ক্রিকেট দুই দেশের মধ্যে শান্তির দূত হিসেবে কাজ করলেও, বেশিরভাগ সময় রাজনীতিই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুনে জ্বালানি জুগিয়েছে।
দুদলের ক্রিকেটীয় রোমাঞ্চ শুরু ১৯৮৯ সালে করাচিতে শচীন টেন্ডুলকারের আবির্ভাবের মধ্যে দিয়ে। এরপর ১৯৯২ সালে কিরণ মোরের সঙ্গে জাভেদ মিয়াঁদাদের সেই অঙ্গভঙ্গি, ১৯৯৬ সালে ভেঙ্কটেশ প্রসাদ বনাম আমির সোহেল, ১৯৯৯ সালে চেন্নাইয়ের দর্শকদের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানো কিংবা ২০২২ সালে মেলবোর্নে বিরাট কোহলির সেই জাদুকরী ইনিংস- এমন মুহূর্তগুলো এই লড়াইকে নিছক খেলার ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়েছিল।
ক্রিকেটের ছোট সংস্করণের বিশ্ব আসরে ভারতের বিপক্ষে একবারই জয়ের স্বাদ পেয়েছে পাকিস্তান। ২০২১ বিশ্বকাপে দুবাইয়ে বাবর-রিজওয়ানের ক্যামিওতে তারা জিতেছিল ১০ উইকেটে। এবারে প্রেমাদাসায় পরিসংখ্যান বদলানোর লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ম্যান ইন গ্রিনরা।
টি-টুয়েন্টিতে এপর্যন্ত ১৬ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-পাকিস্তান। যেখানে জয়ের পাল্লা ভারী ভারতের। তাদের ১৩ জয়ের বিপরীতে পাকিস্তানের জয় কেবল ৩টিতে। এমনকি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও এগিয়ে টিম ইন্ডিয়া। ৮ ম্যাচের মধ্যে সূর্যকুমার যাদবদের জয় ৬টি, অন্যদিকে পাকিস্তানের জয় কেবল একটিতে। অন্য একটি শেষ হয় সমতায়। ২০০৭ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি সমতায় শেষ করার পর সুপার ওভারে ভারত জিতেছিল ৫ রানে।
এবারের আসরে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই বেশ শক্তিশালী ভারত। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ওপেনিংয়ে ইশান কিষাণ, সঞ্জু স্যামসনরা হতে পারেন গেম চেঞ্জার। মিডল অর্ডারে তিলক ভার্মা ও রিঙ্কু সিং আর, শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে আছেন পাওয়ার হিটার হার্দিক পান্ডিয়া ও শিভম দুবে। বোলিংয়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন জাসপ্রিত বুমরাহ। সঙ্গে বরুণ চক্রবর্তী, কুলদীপ যাদব কিংবা অক্ষর প্যাটেলরা হতে পারেন পাকিস্তানের জন্য হুমকি।
বিপরীতে সালমান আলি আঘার পাকিস্তান দল অনেকটাই নির্ভর করছে ফাস্ট বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি ও নাসিম শাহের ওপর। ব্যাটিংয়ে গুরু দায়িত্ব নিতে হবে অভিজ্ঞ বাবর আজমকে। সঙ্গে ফখর জামান ও সাইম আইয়ুব আক্রমণাত্মক সূচনা দিতে পারলে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে পাকিস্তানের হাতেই।
প্রেমাদাসার উইকেট মূলত স্পিন বান্ধব। কিছুটা ধীর গতির হওয়ায় রান তোলা হয়ে পরে বেশ কঠিন। তাই ভারত-পাকিস্তান মহারণের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন স্পিনাররাই। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ১৬০ তুলতে পারলেই তা হবে চ্যালেঞ্জিং।
এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে দুই দলই অপরাজিত। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়াকে হারিয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষে রয়েছে। তাদের নেট রান রেট +৩.০৫০। অন্যদিকে পাকিস্তান নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে, তাদের নেট রান রেট +০.৯৩২।








