সফলভাবে উচ্চগতির রকেট-স্লেড পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে ভারত। যা দেশটিকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের ইজেকশন প্রযুক্তিতে বিশ্বের কয়েকটি অগ্রসর দেশের এলিট ক্লাবে উন্নীত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আজ (৩ ডিসেম্বর) বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) নিয়ন্ত্রিত গতিবেগে যুদ্ধবিমান থেকে পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসার এই জটিল ব্যবস্থা পরীক্ষা করে। চণ্ডীগড়ের টার্মিনাল ব্যালিস্টিক্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির রেল ট্র্যাক রকেট স্লেড (আরটিআরএস) সুবিধায় পরিচালিত পরীক্ষায় ৮০০ কিলোমিটার গতিবেগে ক্যনোপি কাটিং, ইজেকশন সিকোয়েন্সিং এবং পাইলট উদ্ধার প্রক্রিয়ার সব ধাপ সফলভাবে যাচাই করা হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এই সফলতা দেশটিকে এমন এলিট ক্লাবে পৌঁছে দিয়েছে, যেখানে অত্যাধুনিক পালানোর সিস্টেম স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা করতে সক্ষম মাত্র কয়েকটি দেশই আছে। পরীক্ষায় এলসিএ (লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট) যুদ্ধবিমানের সামনের অংশ ব্যবহার করে দ্বৈত রকেট-স্লেড সিস্টেমকে বহু ধাপে রকেট মোটরের মাধ্যমে উচ্চগতিতে চালানো হয়। এতে তৈরি হয় মাঝআকাশে উড়ন্ত বিমানের সমতুল্য পরিস্থিতি।
ইজেকশন প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করতে ‘ইন্সট্রুমেন্টেড অ্যানথ্রোপোমরফিক টেস্ট ডামি’ ব্যবহার করা হয়, যা পাইলটের সম্ভাব্য চাপ, ধাক্কা ও ত্বরণ রেকর্ড করে। পুরো প্রক্রিয়াটি ক্যামেরা ও সেন্সরের মাধ্যমে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।ডিআরডিওর সঙ্গে এই পরীক্ষায় অংশ নেয় অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এডিএ), হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল) এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিমান থেকে পাইলটের জীবনরক্ষায় ইজেকশন সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত যে এই প্রযুক্তিতে নিজস্ব সক্ষমতায় অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।







