ভারত ও পাকিস্তান ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারিতে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো অবস্থানে ছিল বলে জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।
সম্প্রতি স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাদের ওপর হামলার পর দিল্লি পাকিস্তানি ভূখণ্ডে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।
সেসময় পাকিস্তান ভারতীয় সামরিক বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে এবং একজন ফাইটার পাইলটকে আটক করেছে বলে জানায়।
ভারত ও পাকিস্তান দুটি দেশই পুরো কাশ্মীর দাবি করলেও প্রত্যেকেই আলাদাভাবে এর কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাশ্মীর উপত্যকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ করে আসছে যা ইসলামাবাদ অস্বীকার করে।
পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দুই প্রতিবেশী দেশ ব্রিটেন থেকে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভ করে এবং দেশভাগের পর থেকে মোট তিনটি যুদ্ধে জড়িত হয়েছে। যার মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবই কাশ্মীর নিয়ে।
‘নেভার গিভ অ্যান ইঞ্চি: ফাইটিং ফর দ্য আমেরিকা আই লাভ’ নামক বইয়ে লেখক পম্পেও বলেছেন, অনেকেই জানে না যে ভারত ও পাকিস্তান ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারিতে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো অবস্থার কতটা কাছাকাছি ছিল।
তিনি লিখেছেন, ‘সত্য হলো, আমি সঠিক উত্তরটিও জানি না; আমি শুধু জানি এটি খুব কাছাকাছি ছিল।’
পম্পেও বলেন, তিনি কখনও সেই রাতটি ভুলবেন না যে রাতে তিনি হ্যানয়ে পরমাণু অস্ত্র নিয়ে নর্থ কোরিয়ার সাথে আলোচনা শীর্ষক বৈঠকে ছিলেন। যখন ভারত ও পাকিস্তান কাশ্মীরের উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে কয়েক দশক ধরে চলে আসা বিরোধের কারণে একে অপরকে হুমকি দেওয়া শুরু করেছিল।
পম্পেওর মতে, ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে একটি বিমান হামলা ঘটিয়েছিল। যার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানিরা তাদের একটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করে এবং ভারতীয় পাইলটকে বন্দী করে রাখে।
তিনি বলেছেন, তিনি পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন।
‘সেদিনের বৈঠকে দুটি দেশকে তারা যে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে এই বিষয়টি বোঝাতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে। ভয়ংকর পরিণতি এড়াতে আমরা সেই রাতে যা করেছি তা অন্য কোনো জাতি করবে না, বলেন পম্পেও।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবির বিষয়ে ভারত বা পাকিস্তান কেউই এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
সেসময় ভারতীয় সৈন্যদের উপর হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক একটি গোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেএম)কে দায়ী করা হয়েছিল এবং ভারত এর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।







