পিপল ইউনাইটেড ফর প্রোগ্রেস পিপল আপ এর প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাউন্টেন ব্যাটালিয়ান কমান্ডার স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশে যা চলছে তা জাতিকে মেধাশূন্য করার একটি একতরফা যুদ্ধ।
রোববার ২১ জুলাই নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ওয়াটারবেরি এভিনিউতে অনুষ্ঠিত পিপল আপ স্ট্রিট ফেয়ারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সে সময় তিনি বাংলাদেশে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের আগে এবং পরবর্তী সময়ে ছাত্রদের অন্যায়-শোষনের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘটনার প্রতিচ্ছ্ববি বলে উল্লেখ করে বলেন, চাকরির বাজারে নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করতে, নায্যতার প্রশ্নে এখনকার নিম্ন ও মধ্য আয়ের হাজারো শিক্ষার্থী যে রাজপথে নেমেছে, আন্দোলন করছে, এটি মহান মুক্তিযুদ্ধেরই অংশ। এভাবেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে, দেশকে মেধাবীদের দ্বারা পরিচালনা করতে হলে, অবশ্যই কোটা সংস্কার জরুরী । ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা শেষে ঘুষ-অনিয়ম-দূর্নীতির মাধ্যমে চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে চায় না, তাদের প্রতিযোগিতার সুযোগ দিয়ে দেশ পরিচালনায় যুক্ত করতে হবে।
ওই মেলার আয়োজন করে বাংলাদেশি আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশন ‘বাকা’। সংগঠনের সভাপতি সারওয়ার চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম হাসনু ও আহবাব চৌধুরী খোকনের তত্বাবধানে সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহ বদরুজ্জামান রুহেল ও আশরাফুল হাসান বুলবুল।
তিনি পিপল আপ উত্থাপিত ১৪ দফা এজেণ্ডার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমাদের জনগণের স্বার্থেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সেবা, আবাসনসহ প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে আমাদের যে পথরেখা তার সঙ্গেই পিপল ইউনাইটেড ফর প্রোগ্রেস এর শুভযাত্রা ঘটেছে, এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
তিনি বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতিতে আক্রান্ত প্রতিটি মানুষের জন্য সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই সময়ে সবার ঐক্য সবচেয়ে আগে প্রয়োজন। ঐক্য ছাড়া এ ধরণের পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায় না।
তিনি বাংলাদেশি আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশেনের নেতৃবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই সংগঠন বরাবরের মতোই বাংলাদেশের জীবন ও সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরছে। ব্রংকস এর ১৪ লাখ মানুষ যে সাংস্কৃতির বৈচিত্রের ভেতর দিয়ে বসবাস করছে তা এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। এর মধ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটি ব্যবসা বানিজ্যের উদ্যোগ থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রেই চালকের আসনে রয়েছে। বিশেষ করে তারা কর্সংস্থান সৃষ্টি করছেন। তাদের এই অবদান বিশেষ গুরুত্ব রাখছে। আমরা এ জন্য এই কমিউনিটির প্রতিটি মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ।
সংগঠনের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি মোহাম্মদ সাদী মিন্টু, সহ সভাপতি ও মেলা কমিটির আহবায়ক মাকসুদা আহমেদ, সহ সভাপতি ও মেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ফয়সল আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমডি আলা উদ্দিন, সোহেল আহমদ, শাহ কামাল উদ্দিন,স্কুল শিক্ষা ও সমাজসেবা সম্পাদক ও মেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব সালমা সুমী, প্রচার ও গণসংযোগ সম্পাদক লিয়াকত আলী, আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক আব্দুর রহমান দুলাল, কোষাধ্যক্ষ ও মেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ রনি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ হোসেন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও মেলা কমিটির সদস্য সচিব রায়হান জামান রানা,ক্রীড়া ও বিনোদন শাহ ইকবাল রাজু, কার্যকরী সদস্য চৌধুরী মোমিত তানিম।







