গত ২ সেপ্টেম্বর ডায়ালাইসিসের সময় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দেশবরেণ্য লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনকে রাজধানীর মহাখালীর একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে চ্যানেল আই অনলাইনকে এমনটাই জানালেন গুণী এই সংগীতশিল্পীর স্বামী যন্ত্রসংগীতশিল্পী গাজী আবদুল হাকিম।
এদিকে চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো জটিল। কিডনি সমস্যার পাশাপাশি শ্বাসকষ্টসহ আরও নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি।
ফরিদা পারভীনের বড় ছেলে ইমাম নিমেরি উপল চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, ডায়ালাইসিসের পর আম্মার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। পরে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করাতে হয়।
গত কয়েক মাসে একাধিকবার আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়েছে ফরিদা পারভীনকে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, ফুসফুস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন। শরীর দুর্বল থাকায় হাঁটা বা দাঁড়ানোও তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
মায়ের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে উপল জানান, তাঁকে সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস দিতে হয়। এরআগে যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল ভর্তি ছিলেন, তখন শারীরিক অবস্থা একটু ভালো হতেই বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়; এটা আমাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো। উনাকে হাসপাতালে রেখে আরো কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করে বাসায় নেয়া উচিত ছিলো।
এবার আর এমন ভুল করতে চান না বলেই জানালেন উপল।
বর্তমান সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে নিয়মিত ফরিদা পারভীনের খোঁজ নেয়া হচ্ছে বলে জানান ইমাম উপল। সেই সাথে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও ফরিদা পারভীনের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন বলে জানান তার বড় ছেলে।
১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে নজরুলসংগীত দিয়ে সংগীতজীবন শুরু করেন ফরিদা পারভীন। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে পরিচিতি পান তিনি। পরে সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে লালনসংগীতে তালিম নিয়ে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন লালনসংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তী।
সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।








