জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর এক মন্তব্যে বলেন বলেন, যদি সংস্কার আনতে না পারেন। রাষ্ট্র কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে না পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে উপদেষ্টা পরিষদের সবাইকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। গত ১৫ বছরে এমন কোন মানুষ নেই যার পকেট কাটা যায়নি। লুট করা, লুকিয়ে রাখা টাকার নব্য পাহারাদার হয়েছে বিএনপি।
রোববার ৯ অক্টোবর, সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটোরিয়ামে এনসিপি’র ন্যাশনাল ল’ইয়ারস অ্যালায়েন্স আয়োজিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পথরেখা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, কিছু রাজনৈতিক দলের নেতারা বলে জুলাই সনদের অনেক কিছু বোঝে না। তাদেরকে নাকি জুলাই সনদ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আপনারা যদি না বোঝেন তাহলে রাজনীতিতে আসছেন কেন?
এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর বক্তব্যে বলেন, সুপ্রিম কোর্টে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদের আঁতুরঘর নির্মাণের বীজ বপণ করা হয়েছে। মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধে, গরীব দুঃখীদের পাশে আইনজীবীদের দাঁড়াতে হবে। জলপাই রঙের হেলিকপ্টার কারা দিয়েছে, তার ভিডিও জাতি দেখেছে। ক্যান্টনমেন্ট যারা আশ্রয় নিয়েছিলো, তাদের পুরোপুরি হিসাব আমরা পাইনি। আদালতে অনেক অভিযুক্তকারী এসি গাড়িতে আসছে , এটা আমাদের কাছে লজ্জা।
তারেক জিয়ার বিষয় উল্লেখ তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও আপনি আসতে ভয় পাচ্ছেন। কীসের ভয় আপনার? ভারতকে তো আমরা ভয় পাই না। শুনলাম বুলেট প্রুফ গাড়ি কিনেছেন ৷ বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য তাহলে ট্রেন থেকে সব পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সব বুলেটপ্রুফ যান লাগবে ৷ আওয়ামী লীগের পরিণতিই বিএনপির পরিণতি হবে। ভেবেছেন ২-৩টা আসন দিয়ে আমাদের কিনে ফেলবেন? আমরা বেঁচে থাকতে এই স্বপ্ন কখনো পূরণ হবে না। বিএনপির মৃত্যু ঘণ্টা বেজে গেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের পরিণতিই বিএনপির পরিণতি হবে।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আপনি দুইটা আসন দিয়ে, তিনটা আসন দিয়ে আমাদের কিনতে চাইছেন। এই স্বপ্ন কখনোই বাস্তবায়ন হবে না আপনাদের। আইভী কিভাবে জামিন পেলো প্রশ্ন করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের ধরে নিয়ে আসলে বিএনপি নেতারাই জামিন নিতে আসে।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি পুরনো দলে যোগ দিয়ে গোল খাওয়া বেদনা নিয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের বেধে দেয়া সময় শেষের পথে। অথচ নিজেদের দায়িত্ব ভুলতে বসেছে সরকার। সংস্কারের বিষয়ে সরকারের গাফিলতি দেখা গেলে ম্যান্ডেট থেকে বিচ্যুতি প্রমাণিত হয়ে যাবে।
তিনি প্রশ্ন করেন, পুরোনো সংবিধানের ফাঁদে জনগণ কেন আশা আকাঙ্খা জলাঞ্জলি দিবে? এছাড়া সরকারের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর সংস্কারের আলাপ চাপিয়ে না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার বাধাগ্রস্ত হলে এই সরকারের এক্সিট পয়েন্ট কি হবে এবং নির্বাচন কিভাবে হবে সেই ধোঁয়াশার জায়গা তৈরি হবে।








