দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অরাজকতায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। মালয়েশিয়ায় বিশেষ ফ্লাইট দিয়ে কর্মীদের পাঠানো হয়েছে। তারপরও অনেকেই কেন যেতে পারেনি তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এজন্য কেউ দায়ী হলে বিচার করা হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরপর্বে একথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: আমাদের দেশের একশ্রেণির দালালদের সঙ্গে মালয়েশিয়ারও কিছু লোক জড়িত। এ কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কেন এত মানুষ বিড়ম্বনায় পড়ল তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য খসরু চৌধুরীর এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর কিছু অভিঘাত বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুবিধার অবসান ঘটবে। একইসঙ্গে অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিকাশের মাধ্যমে কিছু বাড়তি সুবিধা তৈরি হবে।
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলীর লিখিত আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: নিরাপদ সাইবার স্পেস ও সাইবার অপরাধ দমনে বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় একটি আলাদা ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিশেষ চক্র, বিশেষভাবে সাম্প্রদায়িক চক্র, যুদ্ধাপরাধী চক্র ও বিএনপি-জামায়াত ক্রমাগতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। এদের একটি বড় অংশ উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। তারা মূলত ফেসবুক, এক্স (প্রাক্তন টুইটার), ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিকৃত খবর প্রচার করছে।
গুজব ও অপপ্রচার বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহ ব্যবহার করে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রোপাগান্ডা, সাম্প্রদায়িক উসকানি ও গুজব প্রতিরোধে ২৪/৭ সাইবার প্যাট্রলিং জোরদার করা হয়েছে; গুজব সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রাখা হয়েছে। গুজব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন: জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এবং সাইবার সাপোর্ট হেল্পলাইনের মাধ্যমে গুজব সংক্রান্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণের সাপেক্ষে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বিদেশে অবস্থানরত গুজব সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যে বিভাগগুলোতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেখানে পর্যায়ক্রমে তা করা হবে।
দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যহত রাখতে প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহারের কথা বলেন, সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।







