শেখ মহিউদ্দিন আহাম্মদ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
স্ত্রী হত্যার দায়ে ময়মনসিংহ সদরের ফকিরাকান্দা বয়রা পশ্চিমপাড়ার ফখরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এরআগে সে তার আরেকজন স্ত্রী’কে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছিল। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মমতাজ পারভীন এ আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, অভিযুক্ত ফখরুল ইসলাম ২০১২ সালের ২৬ মার্চ বিকেলে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী শিরিনাজ বেগমকে বটি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। এর পূর্বে ২০০১ সালের ১৬ আগস্ট তার দ্বিতীয় স্ত্রী কানিজ ওরফে তানিয়াকে হত্যার দায়ে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৩ সালে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। উক্ত মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে প্রথম স্ত্রী শিরিনাজকে ঘুমন্ত অবস্থায় জবাই করে হত্যা করে।
মামলা চলাকালে অভিযুক্ত নিজেকে অপ্রকৃতস্থ দাবি করলে আদালতের নির্দেশে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড বিভিন্ন পরিক্ষা-নীরিক্ষা শেষে তাকে সুস্থ ঘোষণা করে।
একইসঙ্গে ২০০১ সালের মামলার ঘটনার সময় সে অপ্রকৃতস্থ ছিল মর্মে দাবি করলে পাবনা মানসিক হাসপাতাল থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করে আদালত অবগত হয়, ওই সময়কালেও সে স্বাভাবিক ছিল বিধায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি না করে ফেরত পাঠায়।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অবস্থায় জামিনে মুক্তি পেয়ে অভিযুক্ত দ্বিতীয় বার একই ধরনের অপরাধ করেছে, তাই ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩০৩ ধারায় নির্ধারিত বিধান অনুসারে একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি বীর মুক্তিযোদ্ধা কবীর উদ্দিন ভূঁইয়া ও অভিযুক্তের পক্ষে কোন আইনজীবি না থাকায় রাষ্ট্র নিয়োজিত মোকাম্মেল হক শাকিল মামলাটি পরিচালনা করেন।








