ঠাকুরগাঁও সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পরিচালিত বিভিন্ন ক্যাম্পে শত শত বাংলাভাষী নারী, পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করার খবর পাওয়া গেছে। তাদের বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানো (পুশব্যাক) হতে পারে—এমন আশঙ্কায় সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার ৯ জুন সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলার বিপরীতে ভারতের ভেলাগাছি, সোনামতি, নাটুয়াটলি, বড়বিল্লা, সাতভিঠা ও হাটখোলা বিএসএফ ক্যাম্পে বিভিন্ন দলে ভাগ করে বহু মানুষকে রাখা হয়েছে। কোনো কোনো ক্যাম্পে ৩০ থেকে ৪০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে হাটখোলা বিএসএফ ক্যাম্পে ৩০ জনের বেশি মানুষের একটি দলকে সীমান্তে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিজিবির ৫০ ব্যাটালিয়নের কান্তীভিঠা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী, বিশেষ করে মুসলিম নারী-পুরুষ ও শিশুদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাদের সীমান্তসংলগ্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে অনেককে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার দানাজপুর সীমান্তকে সম্ভাব্য পুশব্যাক রুট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ও ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে, আটক ব্যক্তিদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সীমান্ত সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, অনেককে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে জোরপূর্বক ইনজেকশন প্রয়োগ করে সীমান্ত পার করানোর চেষ্টারও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার ৪ জুন ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ ও রায়গঞ্জের বিপরীতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে এক অন্ত:সত্ত্বা নারী, শিশু, কিশোর ও বৃদ্ধসহ ১১ জনকে শূন্যরেখায় রেখে যায় বিএসএফ। বিজিবির বাধার মুখে তারা প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করে। ওই দলের সদস্য ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলে, আমরা গরিব মানুষ। আমাদের নিয়ে শুধু খেলা করা হয়। খেতেও দেয় না, আবার সীমান্ত পার করে ঠেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিজিবির আপত্তির মুখে রোববার গভীর রাতে ওই ১১ জনকে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঠাকুরগাঁও সীমান্তের বিভিন্ন আউটপোস্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে বিজিবি। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশব্যাক ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজির আহম্মদ বলেন, বিজিবি সদস্যরা দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।







