গ্রিক গড-এর মতো চেহারা, সুঠাম দেহ আর মায়াবী চোখ, এই দিয়েই তো গত আড়াই দশক ধরে বলিউড মাত করছেন হৃতিক রোশন। কিন্তু এই সুপারস্টারের শরীরেও যে মিশে আছে ২৫ শতাংশ খাঁটি বাঙালির রক্ত, সে কথা কজন জানতেন?
সম্প্রতি বছরের শুরুতে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করে হৃতিক নিজেই মনে করিয়ে দিলেন তার শিকড়ের কথা। ক্যাপশনে লিখলেন, “বোধ হয় এভাবেই আমার ভেতরের ২৫ শতাংশ বাঙালি রক্ত বইছে।” শিকড়ের টানে কলকাতা থেকে মুম্বাই হৃতিকের এই বাঙালি সত্তার যোগসূত্র তার দাদি— ইরা রোশন।
বিয়ের আগে যিনি ছিলেন কলকাতার মেয়ে ইরা মৈত্র। বিশ বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গান গাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কলকাতা ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন দিল্লিতে। সেখানেই আলাপ প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক রোশন লাল নাগরথের সঙ্গে। সেই আলাপই পরে পরিণয়ে রূপ নেয়।
‘ডুগগু’ নামের সেই ছোট্ট ছেলেটি পরিবারে ইরা ছিলেন বটগাছের মতো। হৃতিকের বাবা রাকেশ রোশনের ডাকনাম ছিল ‘গুড্ডু’। সেই নামের সঙ্গে মিলিয়ে আদরের নাতির নাম ‘ডুগগু’ রেখেছিলেন দাদি ইরা-ই। মুম্বাইয়ের চাকচিক্যের মাঝেও নাতিকে তিনি বড় করেছিলেন বাঙালি আদব-কায়দায়। হৃতিক তাকে আদর করে ডাকতেন ‘ঠাম্মি’। পিয়ানো বাজানো থেকে শুরু করে মাছের ঝোল দিয়ে ভাত মাখিয়ে খাওয়ানো— হৃতিকের শৈশব ছিল এক টুকরো বাংলাতেই ঘেরা।
জানুয়ারি মাসটি হৃতিকের জীবনে সবসময়ই একটু বেশি স্পেশাল। এই মাসেই তার জন্মদিন, এই মাসেই মুক্তি পেয়েছিল তার প্রথম ছবি ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’। আর অদ্ভুতভাবে, তার জীবনের প্রথম স্টেজ পারফরম্যান্সও ছিল এই কলকাতার বুকেই। বাবা রাকেশ রোশন কিছুটা বাংলা বলতে পারলেও হৃতিকের জিভে সেই টান নেই ঠিকই, কিন্তু তার রুচিতে আজও মিশে আছে ‘ঠাম্মি’-র হাতের রান্না করা সেই মাছের স্বাদ।







