রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন এলাকার একটি বাসা থেকে ৫৫ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় তিন গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরির ৩১ ভরি ৪ আনা ৫ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- বাসাটির স্থায়ী গৃহকর্মী তানজিনা আক্তার ফারিয়া (১৬) ও পার্টটাইম গৃহকর্মী কোহিনূর বেগম এবং নাজমা আক্তার ওরফে লাইজু।
পুলিশ জানায়, গত ৪ অক্টোবর থেকে পার্টটাইম দুই গৃহকর্মীর নির্দেশনার ওই বাসা থেকে দফায় দফায় স্বর্ণালঙ্কারগুলো চুরি করে স্থায়ী গৃহকর্মী ১৬ বছর বয়সী তানজিনা। কারওয়ান বাজারের তিনটি দোকানে এসব স্বর্ণের কিছু অংশ বিক্রি করে ব্যাংকে এফডিআর করেন গৃহকর্মী লাইজু।
আজ শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. সরওয়ার জাহান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১৬ আগস্ট ব্যাংক কর্মকর্তা রোখসানা মজুমদার ব্যাংকের লকারে গচ্ছিত স্বর্ণালংকার এনে নিজের ইস্কাটন গার্ডেনের বাসার আলমারিতে রাখেন। পরে গত ৮ অক্টোবর গহনা দেখার জন্য আলমারির মধ্যে থাকা ব্যাগ খুলে দেখেন ব্যাগের মধ্যে থাকা ৫৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ডায়মন্ডের ৫টি আংটি নেই।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রমনা মডেল থানায় একটি চুরি মামলা দায়ের করেন তিনি এবং এতে বাসার স্থায়ী গৃহকর্মী তানজিনা আক্তার ফারিয়া ও কোহিনূর বেগম এবং অস্থায়ী গৃহকর্মী নাজমা আক্তার ওরফে লাইজুক আসামি করেন।
মামলার সূত্র ধরে ওইদিনই বিকালে রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গৃহকর্মী তানজিনা আক্তার ফারিয়া ও কোহিনূর বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে গতকাল শুক্রবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতে তানজিনা আক্তার ফারিয়া স্বীকারোক্তি জবানবন্দি প্রদান করে।
জবানবন্দিতে তানজিনা আক্তার ফারিয়া উল্লেখ করেন, তিনিসহ গ্রেপ্তার কোহিনূর বেগম ও নাজমা আক্তার লাইজু এ চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। আদালত কোহিনুর বেগমের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রমনার ডিসি সরওয়ার জাহান আরও বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তানজিনা আক্তার ফারিয়া দেখানোমতে গৃহকর্মীদের বাসা থেকে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
পরে নিউ ইস্কাটন রোডের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার নাজমা আক্তার লাইজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১৬ ভরি ১৫ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। অবশিষ্ট স্বর্ণ উদ্ধারের জন্য গ্রেপ্তার লাইজুকে নিয়ে কারওয়ান বাজারের স্বর্ণ মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে অনন্যা জুয়েলার্স থেকে গলিত অবস্থায় ২ ভরি ১২ আনা ৪ রতি এবং নুসরাত জুয়েলার্স থেকে গলিত অবস্থায় ৩ ভরি ৮ আনা ৩ রতি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
রমনা বিভাগের ডিসি আরও বলেন, চুরির মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৩১ ভরি ৪ আনা ৫ রতি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া স্বর্ণলঙ্কার বিক্রির টাকায় ১০ লাখ টাকার একটি এফডিআরের তথ্য পাওয়া গেছে।
অবশিষ্ট চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।







