বাংলাদেশে শিশুখাদ্যের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হল সেরেলাক। সুইস ফুড অ্যান্ড বেভারেজ জায়ান্ট নেসলের তৈরি এই পণ্যটি বছরের পর বছর ধরে স্থান করে নিয়েছে শিশুদের খাদ্য তালিকায়। তবে এবার এই পণ্যটি নিয়ে উঠে এল ভয়ঙ্কর তথ্য।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, নেসলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ, ভারতসহ বেশ কিছু দেশ পণ্যটিতে চিনি ব্যবহার করে থাকে। যা শিশুর দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
দ্য সান জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডের অলাভজনক বেসরকারি সংগঠন পাবলিক আই ও ইন্টারন্যাশনাল বেবি ফুড অ্যাকশন নেটওয়ার্কের যৌথ গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সেরেলাক নিয়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে নেসলে শিশু ও ছোট বাচ্চাদের চিনির প্রতি আসক্ত করে তুলছে। বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, থাইল্যান্ড, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো উন্নয়নশীল বা দরিদ্র দেশগুলোতেই এই প্রবণতা বেশি। সেরেলাক ছাড়াও জনপ্রিয় খাদ্য পণ্য নিডোতেও উচ্চ মাত্রার চিনি ব্যবহার করছে নেসলে। শিশুদের জন্য নিডোর যেসব পণ্য আছে তার সবগুলোতেই বাড়তি চিনি আছে। এসব দেশে চিনি ব্যবহার করলেও জার্মানি, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে তা করা হচ্ছে না।
পাবলিক আই প্রতিবেদনে নেসলেকে “দ্বৈত মানদণ্ড” বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইথিওপিয়া এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশগলোতে সেরেলাকের প্রতিবার গ্রহণ করা খাবারের পরিমাণে ১.৬ থেকে ৬ গ্রাম পর্যন্ত চিনি পাওয়া গেছে।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা অল্প বয়সে চিনির স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে পরবর্তী জীবনে তাদের মধ্যে বেশি চিনিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়বে। যা স্থূলতা বা ডায়াবেটিসের মতো রোগের অন্যতম কারণ।
নেসলে আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন দেশে শিশুদের জন্য দুধ এবং সিরিয়াল পণ্যে চিনি ও মধু যোগ করে। কেবল এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতেই তাদের এই প্রবণতা দেখা গেছে বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।








