বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণ ও স্থানান্তরের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক জনস্বার্থমূলক রিটের শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কমিউনিটি কুকুর ব্যবস্থাপনায় ক্যাচ-নেউটের-ভ্যাকসিন-রিলিজ (কনভির) এবং ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন (এমডিভি) কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত রুলে জানতে চেয়েছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের পরিপত্র এবং প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ধারা ৭(১) ও ১৪-এর পরিপন্থীভাবে পরিচালিত বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণ, স্থানান্তর ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম কেন বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কমিটিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় গণকুকুর টিকাদান (এমডিভি) এবং কুকুর ধরা-বন্ধ্যাকরণ-টিকাদান-অবমুক্তকরণ (কনভির) কর্মসূচির সম্ভাব্যতা যাচাই করে তা বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
রিট পিটিশন নং ৬৬৯৯/২০২৬ দায়ের করেন এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপান্বিতা হৃদি। রিটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন জনপরিসর থেকে বেওয়ারিশ কমিউনিটি কুকুর অপসারণ, স্থানান্তর ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. তৌফিকুল ইসলাম খান।
এর আগে শনিবার (২০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে পথকুকুর নিধনের দাবির বিরুদ্ধে এবং প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ বাস্তবায়নের দাবিতে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রাণিকল্যাণকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চলচ্চিত্রকর্মী ও সাধারণ নাগরিকসহ প্রায় দেড়শ থেকে দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে ক্যাচ-নেউটের-ভ্যাকসিন-রিলিজ (কনভির) কার্যক্রম জোরদার, গণটিকাদান সম্প্রসারণ এবং পথকুকুর নিধন বন্ধের দাবি জানানো হয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের প্রতিষ্ঠাতা দীপান্বিতা হৃদি বলেন, আদালতের এই আদেশ প্রাণিকল্যাণ, জনস্বাস্থ্য এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি বলেন, কমিউনিটি কুকুর ব্যবস্থাপনার গ্রহণযোগ্য সমাধান হত্যা নয়; বরং টিকাদান, বন্ধ্যাকরণ এবং মানবিক ব্যবস্থাপনা।
অন্যদিকে গ্রিট ফাউন্ডেশনের পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন টুম্পা বলেন, মানববন্ধনে উত্থাপিত দাবিগুলোর গুরুত্ব আদালতের নির্দেশনার মাধ্যমে আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি দ্রুত কনভির ও গণটিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রাণিকল্যাণ সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের এ নির্দেশনা বাংলাদেশে প্রাণিকল্যাণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মানুষ ও পথপ্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

