আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতে বেশ কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে একই পরিবারের পাঁজনসহ কমপক্ষে ১৭ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার ২ জানুয়ারি আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়ার অবসান ঘটিয়ে ভারী বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের ফলে বেশ কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কমপক্ষে ১৭ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হেরাত প্রদেশের কাবকানে বৃহস্পতিবার ছাদ ধসে নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু।
আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএনডিএমএ) মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ হাম্মাদ জানিয়েছেন, সোমবার থেকে বন্যা কবলিত জেলাগুলোতে বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং তীব্র আবহাওয়া মধ্য, উত্তর, দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করেছে।
হাম্মাদ বলেন, বন্যায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গবাদি পশু মারা গেছে এবং এক হাজার ৮শ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ শহুর ও গ্রামের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মূল্যায়ন দল পাঠানো হয়েছে, আরও চাহিদা নির্ধারণের জন্য জরিপ চলছে।
এক্স-এ পোস্ট করা একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, আফগানিস্তানের হেরাত-কান্দাহার মহাসড়কে দাশত-ই বাকওয়ার কাছে আকস্মিক বন্যার কারণে একটি ট্রাক উল্টে যাচ্ছে।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তীব্র বন্যার স্রোতে বাস উল্টে যাওয়ার পর বেশ কয়েকজন লোক মরিয়া হয়ে পালানোর চেষ্টা করছে।
প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং ভারতের মতো আফগানিস্তানও চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে মৌসুমী বৃষ্টিপাতের পরে আকস্মিক বন্যার জন্য।
দশকের পর দশক ধরে সংঘাত, দুর্বল অবকাঠামো, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব এই ধরনের দুর্যোগের প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে অনেক বাড়িঘর কাদা দিয়ে তৈরি এবং সীমিত সুরক্ষার মধ্যে থাকে।
আগস্ট মাসে, পাকিস্তানের সীমান্তের কাছে আফগানিস্তানে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে এক হাজার ৪শ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার প্রদেশে আকস্মিক বন্যার কারণে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়।
জাতিসংঘ এবং অন্যান্য সাহায্য সংস্থাগুলো এই সপ্তাহে সতর্ক করে দিয়েছে, ২০২৬ সালে আফগানিস্তান বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকটগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ এবং এর মানবিক অংশীদাররা মঙ্গলবার দেশটির জরুরি প্রয়োজনে প্রায় ১৮ মিলিয়ন মানুষকে সহায়তা করার জন্য ১.৭ বিলিয়ন ডলারের আবেদন করেছে।







