কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় ডোবার পানিতে ডুবে নিরব মোল্লা (১২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ খবর শোনার পর তার বড়বোন নাজা বেগম (১৮) বাসার ছাদ থেকে নামার সময় নিচে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
আজ সোমবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের মোল্লা বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিরব ও নাজা বেগম ওই এলাকার বাছির মোল্লার সন্তান।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৫টার দিকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিরব পাশের একটি মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে যায়। খেলার সময় ফুটবল ডোবায় পড়ে যায়। ফুটবলটি পানি থেকে আনতে গিয়ে সে ডুবে যায়। বন্ধুরা তাকে পানি থেকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরে স্বজনদের অনুরোধে নিরবের ইসিজির জন্য পাশের একটি প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে নার্স খাদিজাকে ডেকে আনা হয়। ইসিজির পরও নিরবকে মৃত ঘোষণা করা হলে তার স্বজনরা নার্স খাদিজাকে মারধর শুরু করেন। তাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও কর্মচারীদেরও জখম করা হয়।
অন্যদিকে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে বোন নাজা বেগম নিচে নামার সময় তার বাসার দোতলা থেকে পড়ে যায়। স্বজনরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার নেয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের ভূলতা এলাকায় নাজা বেগমও মারা যান।
নিরবের চাচা নাছির মোল্লা বলেন, আমার ভাতিজা পানিতে ডুবে মারা যায়। এ খবর পেয়ে ভাতিজি দোতলার ছাদ থেকে নামার সময় পড়ে গিয়ে মারা যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রওশন আরা রিপা বলেন, নিরব নামের শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পর তাকে মৃত পাই। স্বজনদের চাপে ইসিজি করা হয়েছে। হাসপাতালে কর্মী না থাকায় বাইরের ক্লিনিক থেকে নার্স খাদিজাকে ডেকে আনা হয়। ইসিজি করার পর মৃত ঘোষণা করা হলেও নিরবের স্বজনরা আমার ওপর চড়াও হয় এবং আমাকে তারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। অফিসের কর্তব্যরত উপ-সহকারী সেলিম মিয়াকে মারধর করে। এ সময় তারা আরও তিনজনকে মেরে জখম করে। অপরদিকে নিরবের বোন নাজা বেগমকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ বলেন, শিশুর স্বজনরা ডাক্তারসহ চারজনকে মেরে আহত করেছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।







