এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, আজ (১ জুন) সোমবার শুনানিতে অভিযোগ গঠন করা হলে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করবে। ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত গত ২৪ মে মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আজ শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে রামিসা হত্যাকাণ্ডে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে সরকার। গত রোববার ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রামিসা হত্যার ঘটনায় সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হবে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর ভিত্তিতে আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত রামিসা রাজধানীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্কুলে যাওয়ার সময় শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার একটি স্যান্ডেল দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তার স্বজনরা। সেখানে সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে একটি বালতির ভেতরে মাথা পাওয়া যায়। ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর ২০ মে আদালতে দেওয়া জবানবন্দীতে সোহেল রানা অপরাধের কথা স্বীকার করে এবং ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে উল্লেখ করে। এখন অভিযোগ গঠনের শুনানির মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন ধাপে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।








