পশ্চিমবঙ্গে রেললাইনের পাশে দোকানপাট, ব্যবসা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হকার ও ব্যবসায়ীরা রেলপথ অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। উপযুক্ত পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থার দাবি না মানা পর্যন্ত তারা এই উচ্ছেদ কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ২ জুন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। উত্তর চব্বিশ পরগনার গোবরডাঙ্গা স্টেশনে এ বিক্ষোভ করেন তারা।
এই বিক্ষোভের ফলে জীবিকা, পুনর্বাসন এবং বৃহত্তর উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।
স্টেশন থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নারী-পুরুষেরা রেললাইন দখল করে ‘চলবে না, চলবে না’ স্লোগান দিচ্ছেন এবং দোকানপাট সরানোর প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করছেন। এ সময় এক বৃদ্ধা রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়েন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, স্টেশনে পরিচালিত ব্যবসার ওপরই তাদের জীবিকা পুরোপুরি নির্ভরশীল। তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় কেড়ে নেওয়ার জন্য তারা রেল কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত করেন।
গত ৩১ মে, রেল, কলকাতা পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর একটি যৌথ দল দমদম জংশনে রাতভর উচ্ছেদ অভিযান চালায়। স্টেশনের দিকে যাওয়ার রাস্তার পাশের অবৈধ দখল এবং দোকানপাট উচ্ছেদ করার সময় হকারদের ঘুম থেকে জাগানো হয়।
এর আগে, হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে প্রায় ২৫০ জন হকার ও তাদের দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হয়। বাসস্ট্যান্ড এবং গঙ্গা ঘাট এলাকার কাছে ফুটপাত ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে থাকা অস্থায়ী স্থাপনাগুলো বুলডোজার এবং আর্থমুভার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকজন হকার অভিযোগ করেছেন যে ভাঙার আগে তাদের পর্যাপ্ত নোটিশ দেওয়া হয়নি। অনেকে বলেছেন, এই অভিযান তাদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। উচ্ছেদের আগে তারা পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এই উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যবসায়ী বলেন, “পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা হলে আমাদের আত্মহত্যা করতে হবে।”
এই উচ্ছেদ অভিযান পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কলকাতার নিউ মার্কেটে সম্প্রতি বুলডোজার দিয়ে বেশ কয়েকটি অননুমোদিত বাণিজ্যিক স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অভিযোগ করে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যথাযথ পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়াই হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে।








