মেয়াদ পূর্তির আগেই চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল সিমন্সকে। ২০১৬ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্যারিবীয়দের শিরোপা এনে দেয়া ৬১ বর্ষী কোচের সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
মঙ্গলবার বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হাথুরুসিংহেকে বরখাস্তের ঘোষণা দেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। পাশাপাশি জানান নতুন কোচের নাম। ২০২৫ সালে গড়াতে চলা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত টাইগারদের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সিমন্সকে।
বাংলাদেশের কোচ হতে আগেও আগ্রহ দেখিয়েছিলেন সিমন্স। ২০১৭ সালে হাথুরুসিংহে চলে যাওয়ার পর কোচ হতে আবেদন করেছিলেন। বিসিবির সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও ছিলেন। সেবছর ডিসেম্বরে মিরপুরে এসে ইন্টারভিউ দেন। পরে কোচ হিসেবে স্টিভ রোডসকে নিযুক্ত করেছিল বিসিবি।
১৯৮৭ সালের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অভিষেক হয়েছিল সিমন্সের। পরের বছর জানুয়ারিতে টেস্ট অভিষেক হয় মিডিয়াম পেস অলরাউন্ডারের। ১৯৯৭ সালের নভেম্বরে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলেন। ওয়ানডেতে ইতি টানেন ১৯৯৯ সালে মেতে।
টেস্টে ২৬ ম্যাচ খেলেছেন সিমন্স। ৪৭ ইনিংসে ১,০০২ রান করেছেন। সেঞ্চুরি একটি এবং ফিফটি চারটি। বল হাতে এ ফরম্যাটে ১৬ ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ওয়ানডেতে ১৪৩ ম্যাচ খেলেছেন। ব্যাট হাতে ১৩৮ ইনিংসে ৩,৬৭৫ রান করেন। সাদা বলের ফরম্যাটে ৫ সেঞ্চুরি ও ১৮টি ফিফটি রয়েছে তার। বল হাতে এ ফরম্যাটে ১০৩ ইনিংসে বল করে নিয়েছেন ৮৩ উইকেট। চার উইকেট নিয়েছেন দুবার।
প্রথমশ্রেণির ক্রিকেটে ২০৭ ম্যাচ খেলেছেন। ব্যাট হাতে বেশ সমৃদ্ধ সেখানে। ৩৪৫ ইনিংসে ১১,৬৮২ রান করেছেন। সেঞ্চুরি ২৪টি এবং ফিফটি ৬৫টি। প্রথমশ্রেণির ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ২৬১। বল হাতে ২১৪ উইকেট শিকার করেছেন। সর্বোচ্চ সাফল্য ৪৯ রানে ৭ উইকেট। পাঁচ বা ততোধিক উইকেট পেয়েছেন ৫ বার।
লিস্ট-এ ক্রিকেটে ৩০৬ ম্যাচ খেলেছেন। ২৯৬ ইনিংসে ব্যাট করে ৮,৯২৯ রান করেন। সেঞ্চুরি ১২টি এবং ফিফটি করেছেন ৫৪টি। সর্বোচ্চ ১৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। বল হাতে ২১৫ উইকেট নেন। পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনবার। সর্বোচ্চ সাফল্য ৩৩ রানে ৫ উইকেট।
২০০২ সালে সিমন্স খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের ইতি টানেন। মনোযোগ দেন কোচিংয়ে। ২০০৩ সালে জিম্বাবুয়ের হারারে ক্রিকেট একাডেমিতে প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালের মে-তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোচিংয়ে অভিষেক তার। দায়িত্ব দেন জিম্বাবুয়ের হেড কোচ হিসেবে। বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে বিতর্কের সম্মুখীন হন। পরে ২০০৫ সালের আগস্টে তাকে বরখাস্ত করে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ইউনিয়ন।
২০০৭ সালে আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন সিমন্স। ৮ বছর আইরিশদের কোচিং সামলান। তার অধীনে দারুণ চমক দেখায় আয়ারল্যান্ড। সেসময়েকা প্রতিটি আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে আয়ারল্যান্ড। ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারায় আইরিশবাহিনী। ২০১৫ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েকে হারায় দেশটি।
২০১৫ সালের মার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড থেকে ডাক পড়ে সিমন্সের। আইরিশদের সঙ্গে আট বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে ক্যারিবীয়দের দায়িত্ব নেন। ২০১৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তার অধীনে শিরোপা জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেবছরই ক্যারিবীয়দের দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
আফগানিস্তানের ব্যাটিং কোচ হিসেবে যোগ দিয়ে পরে ২০১৭ সালে প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত আফগানদের কোচিং করান। আফগান ডেরা ছেড়ে কানাডার ফ্যাঞ্চাইজি লিগ গ্লোবাল টি-টুয়েন্টি’র দল ব্রামপ্টন উলভসের দায়িত্ব নেন।
আসর শেষে ২০১৯ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২২ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। তবে সেবছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ হওয়া পর্যন্ত কোচিং সামলান।
২০২৩ সালে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দল করাচি কিংসের হেড কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন। সঙ্গে ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের প্রধান কোচ হিসেবে দায়ত্বি সামলান। মেজর লিগে লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্সের হেড কোচ ছিলেন। চলতি বছর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাপুয়া নিউ গিনির বিশেষ কোচ নিযুক্ত হন। এবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিলেন।







