পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম বিশ্বের আনন্দ উৎসবের দিন আজ। রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনার পর উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে বৃহস্পতিবার সারাদেশে উদযাপন হবে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর।
চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর ভালোবাসা। সাধ ও সাধ্যানুযায়ী ঘরে ঘরে রান্না হবে সুজি, সেমাই, পোলাও, কোরমা, পায়েস, পিঠাপুলিসহ নানাধরনের সুস্বাদু খাবার। ঈদের নামাজ শেষে চলবে শুভেচ্ছা বিনিময়।
রাজধানীসহ সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ঈদ জামাতের প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এবার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে প্যান্ডেলের অভ্যন্তরে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত আয়োজনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন সিটি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মেয়র বলেন, ‘যদি জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত আয়োজন সম্ভব না হয়, তবে বায়তুল মোকাররমে পরবর্তী জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়।’
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরে প্রতিবছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের নামাজের ৫টি জামাত হবে। সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে ৮, ৯, ১০ এবং ১১টায় জামাতগুলো হবে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার সকালে হাইকোর্ট মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদের জামাতে সর্বস্তরের মুসল্লিদের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রপতি সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের নামাজ আদায় করবেন।
নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি ঈদগাহে মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী ড. রেবেকা সুলতানা পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাবেন রাষ্ট্রপতি।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে সরকারি বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতা-কর্মী, বিচারক ও বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সন্ধ্যায় এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর অপার খুশি আর আনন্দের বারতা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। ঈদের এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে, গ্রামগঞ্জে, সারা বাংলায়, সারাবিশ্বে। এদিন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এক কাতারে শামিল হন এবং ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেন। ঈদ সবার মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি আর ঐক্যের বন্ধন।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। এখানে হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, কূপমণ্ডূকতার কোনো স্থান নেই। মানবিক মূল্যবোধ, সাম্য ও পারস্পরিক সহাবস্থান এবং পরমতসহিষ্ণুতাসহ বিশ্বজনীন কল্যাণকে ইসলাম ধারণ করে। ইসলামের এই সুমহান বার্তা ও আদর্শ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী নানাবিধ সংকটের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ মন্দার প্রভাব দৃশ্যমান। ফলে সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাভাবিক জীবনধারণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এমতাবস্থায়, আমি সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিবর্গের প্রতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই ঈদের আনন্দ সমানভাবে উপভোগ করতে পারে।’
বাণীতে রাষ্ট্রপতি মানবতার মুক্তির দিশারি হিসেবে ইসলামের মর্মার্থ ও শাশ্বত বাণী ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র, বিশ্ব ভরে উঠুক শান্তি আর সৌহার্দ্যে, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরে এমন প্রত্যাশা করেন।
এর আগে পৃথক এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুসলিম জাহানের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আমি দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক। ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা দেয়। হিংসা-বিদ্বেষ ও হানাহানি ভুলে মানুষ সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ঈদ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলের জীবনে আনন্দের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে। ঈদের আনন্দ আমাদের সবার।’
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি, সংযম, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন পরিব্যাপ্তি লাভ করুক- এটাই হোক ঈদ উৎসবের ঐকান্তিক কামনা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাসি-খুশি ও ঈদের অনাবিল আনন্দে প্রতিটি মানুষের জীবন পূর্ণতায় ভরে উঠুক। বিশ্বের সকল মানুষের সুখ-শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য আজকের দিনে আমি মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি।’
তিনি বলেন, ‘আসুন, সকল প্রকার অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের এই দিনে আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট আমার প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অব্যাহত শান্তি কামনা করছি।’








