এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
জার্মান ফুটবল দলের ভক্ত মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন আবারও তুললেন আলোচনার ঝড়। এবার তিনি প্রদর্শন করেছেন জার্মানির সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা, যা এলাকাজুড়ে আলোচনার তুঙ্গে।
বুধবার সকাল ১০টায় মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাইস্কুল মাঠে নিজ এলাকায় এই ব্যতিক্রমী পতাকা প্রদর্শন আয়োজন করেন আমজাদ। পতাকা দেখতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ ভিড় জমান। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিককর্মী এবং গ্রামবাসী।
ফুটবলপ্রেমী আমজাদ হোসেন জানান, তার এই ‘পতাকা অভিযান’ চলমান থাকবে। এবছর বিশ্বকাপে জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ঘিরে তিনি আরও বড় প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করবেন, যা মাগুরার ভায়না থেকে সীমাখালী পর্যন্ত প্রদর্শন করা হবে।
আমজাদ মাগুরা সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের নেহাল উদ্দিন মোল্যার ছেলে। পেশায় সাধারণ কৃষক। তার জীবনে জার্মানির প্রতি এই গভীর ভালোবাসার সূচনা হয় ১৯৮৭ সালে কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানির হোমিওপ্যাথিক ওষুধ গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে তিনি দাবি করেন। সেসময় থেকে জার্মানির প্রতি তার গভীর অনুরাগ তৈরি হয়, যা পরে বিশ্বকাপে জার্মান দলের প্রতি ভক্তিতে রূপ নেয়। এই ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে নিজ খরচে তিনি পতাকাটি তৈরি করেছেন, যাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। অর্থের জোগান দিতে জমি বিক্রি করেছেন বলে জানালেন।
২০১৪ বিশ্বকাপে আগে আমজাদ সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করে দেশ-বিদেশে আলোচনার জন্ম দেন। সেসময় তার তৈরি পতাকার জন্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল এবং ৩০ শতক জমি বিক্রি করেছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই পতাকা তৈরির কাজে কয়েকজন দর্জিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল এবং শ্রমিকদের মজুরিতে কয়েক হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল। পরে বিশ্বকাপে জার্মানির জয় উদযাপনে তিনি গণভোজের আয়োজন করেন, যা দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে স্থান পায়।
জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে আমজাদ বলেছেন, তার লক্ষ্য শুধু আবেগ নয়, বরং বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করা।







