অন্যান্য খেলা

সম্ভাবনার নতুন আলো দেখছে দেশের হ্যান্ডবল

সম্ভাবনার নতুন আলো দেখছে দেশের হ্যান্ডবল

হ্যান্ডবল শুধুই বল ছোঁড়া নয়, বরং দ্রুত সিদ্ধান্ত, শারীরিক শক্তি আর দলগত সমন্বয়ের এক যুদ্ধক্ষেত্র। বাংলাদেশে হ্যান্ডবলের যাত্রা ১৯৮৩ সালে হলেও এর সোনালী সময় কেটেছে ‘৯০এর দশকে। এরপর থেকে চোখের আড়ালেই থেকে গেছে সম্ভাবনাময় খেলাটি।

বাংলাদেশে ক্রিকেট ও ফুটবলের তুলনায় হ্যান্ডবল কম জনপ্রিয় হলেও সম্প্রতি ফেডারেশনের সক্রিয় উদ্যোগে এই খেলার প্রসার ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাড়ছে। হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, হ্যান্ডবলের প্রসার ও খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধা বাড়াতে টুর্নামেন্ট আয়োজনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে দেশের মাটিতে বেগম খালেদা জিয়া-আইএইচএফ নেশনস ট্রফি আয়োজন।

সালাউদ্দিন আহমেদ বললেন, ফুটবল বা ক্রিকেটের মতো হ্যান্ডবলে স্বতঃস্ফূর্ত স্পন্সর পাওয়া যায় না। মূলত ফেডারেশন কমিটির সহ-সভাপতি ও সদস্যদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে স্পন্সর সংগ্রহ করতে হয়, বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে এগিয়ে আসে না। অতীতে হ্যান্ডবলের ঐতিহ্য ধরে রাখা ও অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় কিছু ঘাটতি ছিল বলেও স্বীকার করলেন তিনি।

সবশেষ এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয় হ্যান্ডবল। তবে ব্যর্থতা ভুলে বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে খেলাটির উন্নয়নে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। বিবেচনায় রয়েছে খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধাও। খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তা ও অনুপ্রেরণা জোগাতে বর্তমানে তাদের হাত খরচ প্রদান করা হচ্ছে এবং ভালো খাবার-চিকিৎসার সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে। আসন্ন এসএ গেমসে তিনটি ইভেন্টে- নারী ইনডোর, পুরুষ ইনডোর এবং বিচ হ্যান্ডবলে অংশগ্রহণ করে পদক জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাইপলাইন তৈরি ও স্কুল পর্যায়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, জানালেন সালাউদ্দিন আহমেদ। বললেন, আগামী বছরের মধ্যে ৫০ জন তরুণী ও ৫০ জন তরুণ খেলোয়াড়কে পাইপলাইনে আনার লক্ষ্য নিয়ে একটি বছরব্যাপী সূচি তৈরি করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সারাদেশে ৮৬টি এবং ঢাকায় ৪০টি স্কুল নিয়ে বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে। পরে জেলার ৮টি ও ঢাকার ২টিকে নিয়ে জাতীয় স্কুল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করা হবে। উপর থেকে নিচে না নেমে একদম নিচ থেকে (স্কুল পর্যায় থেকে) কাজ করার নীতি নেয়া হয়েছে। স্কুল পর্যায়ের খেলোয়াড়দের ২০ দিনের অনুশীলন, পোশাক, খাবার ও কোচ দেয়া হচ্ছে।

লিগ কাঠামোতেও আনা হচ্ছে পরিবর্তন। তিনি জানালেন, দ্বিতীয় বিভাগ লিগে প্রতিটি দলকে বাধ্যতামূলকভাবে স্কুল থেকে কমপক্ষে ১০ জন খেলোয়াড় নিতে হবে। একইভাবে সেকেন্ড ডিভিশন থেকে ফার্স্ট ডিভিশন এবং ফার্স্ট ডিভিশন থেকে প্রিমিয়ার লিগে নির্দিষ্ট সংখ্যক নতুন খেলোয়াড় নেয়ার নিয়ম চালু করা হচ্ছে, যাতে নিচ থেকে খেলোয়াড় উঠে আসার ধারা তৈরি হয়।

ব্যস্ততা বেড়েছে জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে। ১৮ থেকে ২২শে অক্টোবর এখানে হতে চলেছে বেগম খালেদা জিয়া-আইএইচএফ নেশনস ট্রফি-২০২৬। মেয়েদের এই টুর্নামেন্টে শুরুতে ৫ দলের অংশ নেয়ার কথা থাকলেও পরে আফগানিস্তানের খেলোয়াড়দের পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতায় ভারত ও নেপালসহ ৪ দেশের অংশগ্রহণে হবে টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্টকে ঘরের মাঠে ভালো পারফরম্যান্স দিয়ে আঞ্চলিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্য টুর্নামেন্ট সামনে রেখে জাতীয় নারী দলের জন্য স্পানিয়ার্ড কোচ এনা আলোনসোকে নিয়োগ দিয়েছে ফেডারেশন।

বিষয়:হ্যান্ডবল হ্যান্ডবল ফেডারেশন

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…