ধূমপান, মদ্যপান বা যেকোন মাদকদ্রব্য সেবন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক তা জানা কথা। অতিরিক্ত মাদকদ্রব্য সেবন করলে হতে পারে ক্যানসার, হার্ট অ্যাটাক বা অন্যান্য গুরুতর রোগ। কিন্তু সম্প্রতি অতিরিক্ত ধূমপান করার ফলে অস্ট্রিয়ার একজন ব্যক্তির গলায় পাওয়া গেল চুল, ঘটনা দেখে চিকিৎসকরাও স্তম্ভিত।
শনিবার (২৯ জুন) হিন্দুস্তান টাইমস এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার একজন ৫২ বছর বয়সী ব্যক্তির গলার মধ্যে দেখতে পাওয়া গেল অ্যান্ডট্র্যাকিয়াল চুলের বৃদ্ধির বিরল ঘটনা। ওই ব্যক্তি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রতিদিন এক প্যাকেট করে সিগারেট খেতেন। অতিরিক্ত ধূমপানের ফলে ওই ব্যক্তির গলার মধ্যে চুলের বৃদ্ধি হতে দেখা যায়।
আমেরিকান জার্নাল অফ কেস রিপোর্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, ওই ব্যক্তি ২০০৭ সালে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। দীর্ঘস্থায়ী কাশি এবং কর্কশ কণ্ঠস্বরের সমস্যার কারণে তিনি চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি চিকিৎসককে জানান, ১৯৯০ সাল থেকে তিনি সিগারেট খাচ্ছেন। ২০০৬ সালে তিনি অতিরিক্ত কাশি এবং গলার স্বর পরিবর্তন হওয়ার লক্ষণ দেখতে পান নিজেদের শরীরে।
ওই ব্যক্তির সমস্ত ঘটনা শুনে চিকিৎসকরা ব্রঙ্কস্কোপি করার পরামর্শ দেন। রিপোর্ট এলে চিকিৎসকরা দেখেন, ওই ব্যক্তির গলায় একটি জায়গা থেকে বেশ কয়েকটি চুল গজিয়েছে। পরে জানা যায়, ছোটবেলায় একটি দুর্ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার ফলে ওই ব্যক্তির গলায় অস্ত্রপ্রচার করা হয়েছিল।
মাত্র ১০ বছর বয়সে ওই ব্যক্তির গলায় একটি অপারেশন করা হয়, যেখানে ফুসফুসে অক্সিজেন পৌঁছানোর জন্য একটি কৃত্রিম নল স্থাপন করা হয়। পরে গলার ওই ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি কানের চামড়া ব্যবহার করে বন্ধ করা হয়। ওই ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাতেই বৃদ্ধি হয় চুলের।
ওই ব্যক্তির গলায় অস্বাভাবিকভাবে চুল বৃদ্ধির ঘটনাটি দেখে চিকিৎসকরা অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেন। চুলের কোষগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে নতুন কোনও চুল গজাতে না পারে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ওই ব্যক্তি প্রতিবছর হাসপাতালে যেতেন নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য।
চিকিৎসকদের মতে, ওই ব্যক্তির অতিরিক্ত সিগারেট খাওয়ার ফলে এই সমস্যা তৈরি হয়। ২০২২ সালে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে আর কোনও সমস্যা হয়নি। গলায় অস্বাভাবিকভাবে চুলের বৃদ্ধি দেখা যায়নি আর। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, ধূমপান আপনার শরীরে তৈরি করতে পারে এমন কিছু সমস্যা যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।







