কবিতার ছন্দের মতো ক্যারিয়ার করেছেন বর্ণিল। সাজানো নানা রঙের ট্রফির স্পর্শে। যার হাত ধরে জন্ম হয়েছে অনেক তারকার। অনেকেই তারকা থেকে মহাতারকা বনেছেন তার শিষ্য হয়ে। তিনি পেপ গার্দিওলা। ১৫ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে জিতেছেন মোট ৩৩টি শিরোপা। সবশেষ জিতেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ টাইটেল। সেটিও টানা তৃতীয়বার। তাতে লিগ শিরোপা জয়ের হ্যাট্রটিকের ‘হ্যাটট্রিক’ও হয়েছে কিংবদন্তি স্প্যানিশ কোচের।
২০২২-২৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা অবধারিতই ছিল গার্দিওলার ম্যানসিটির। গতরাতে আর্সেনাল নিজেদের খেলায় হারায় এক ম্যাচ আগেই শিরোপা উদযাপনের সুযোগ এসেছে ইতিহাদে। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হল সিটিজেনবাহিনী।
সিটিতে ৫২ বর্ষী গার্দিওলা আছেন প্রায় সাত বছর। ২০১৬ সালের জুলাইতে ইতিহাদে আসা কোচ এপর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন ১২টি ট্রফি। যার মধ্যে ৫টি লিগ শিরোপা। রয়েছে এফএ কাপ, কারাবাও কাপ ও ইংলিশ সুপার কাপ শিরোপাও।
চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ জায়ান্টদের সামনে রয়েছে আরও দুটি শিরোপা জয়ের সুযোগ। ট্রেবল জয়ের স্বপ্নে বিভোর সিটির সামনে এফএ কাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপার মঞ্চে প্রতিপক্ষ ইন্টার মিলান। শিরোপা দুটি নিজেদের করে নিতে পারলে প্রথমবার ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় দল হিসেবে ট্রেবল জয়ের স্বাদ পাবে ম্যানচেস্টার সিটি। সেইসঙ্গে গার্দিওলার ঝুলিতে জমা হবে আরও দুটি শিরোপা।
খেলোয়াড়ি জীবনে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ছিলেন গার্দিওলা। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার একাডেমিতে বেড়ে ওঠার পর ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় কাটান কাতালান ক্লাবটিতে। খেলেছেন ইতালিয়ান ক্লাব বার্সিয়া ক্যালসিও ও রোমা, কাতারের ক্লাব আল আহলির হয়ে। খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ারে ইতি টানেন ২০০৬ সালে, মেক্সিকান ক্লাব ডোরাডোস যে সিনালোয়া থেকে।
২০০৭ সালে কোচিংয়ে যুক্ত হন স্প্যানিশদের সাবেক মিডফিল্ডার। কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুও বার্সেলোনাতে। ২০০৭ সালে বার্সা বি-টিমের ম্যানেজার হন। পরের বছর দায়িত্ব নেন মূল দলের। কাতালান ক্লাবটিকে উপহার দেন রঙিন সময়। ছিলেন ২০১২ অবধি। চার বছরে জেতেন ১৪টি শিরোপা। ছিল দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ২০০৮-০৯ ও ২০১০-১১ মৌসুমে জেতেন ইউরোপসেরার খেতাব।
লা লিগাও জিতেছেন তিনবার। সেটিও টানা তিন মৌসুমে (২০০৮-০৯, ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১)। লিগ শিরোপা জয়ের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বাদ গ্রহণ করেন বার্সাতেই প্রথম। বার্সেলোনায় ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন দুইবার (২০০৯-১০ ও ২০১১-১২ মৌসুম)।
উয়েফা সুপার কাপের দুটি শিরোপা স্পর্শ করেন বার্সেলোনায় থাকাকালীন (২০০৯-১০ ও ২০১১-১২ মৌসুম)। জেতেন দুটি কোপা ডেল রে শিরোপাও (২০০৮-০৯ ও ২০১১-১২ মৌসুম)। স্প্যানিশ সুপার কাপ শিরোপা জেতেন টানা তিনবার (২০০৯-১০, ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ মৌসুম)।
কাতালান ডেরায় দায়িত্বের সময়ে ব্যক্তিগত ঝুলিতেও দুটি ট্রফি জমান গার্দিওলা। পেয়েছেন দুবার বিশ্বসেরা ক্লাব কোচের খেতাব (২০০৮ ও ২০১০ সাল)।
ন্যু ক্যাম্প ছেড়ে ২০১৩ সালে যান জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে। ছিলেন ২০১৬ সাল পর্যন্ত। বাভারিয়ান ডেরাতেও তিন বছরের ক্যারিয়ার রঙিন ছিল গার্দিওলার। সব প্রতিযোগিতা মিলে স্পর্শ করেন ৭ শিরোপা।
বায়ার্নের হয়েও হ্যাটট্রিক করেছেন লিগ শিরোপা জয়ের। জিতেছেনও তিনটি লিগ শিরোপা (২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬)। দুটি জার্মান কাপ জেতেন ২০১৩-১৪ ও ২০১৫-১৬ মৌসুমে। বুন্দেসলিগা জায়ান্ট ক্লাবটির হয়ে ২০১৩-১৪ মৌসুমে জেতেন উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা।
জার্মানিতে বর্ণিল সময় কাটিয়ে ২০১৬ সালে যোগ দেন ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে। দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ৭ বছর। প্রিমিয়ার লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপাসহ ৫ বার জিতেছেন লিগ টাইটেল (২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯, ২০২০-২১, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩)।
কারাবাও কাপে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। টানা চার মৌসুম জেতেন কারাবাও শিরোপা (২০১৭-১৮ থেকে ২০২০-২১)। ইংলিশ সুপার কাপ শিরোপা দুটি (২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০)। ২০১৮-১৯ সালে এফএ কাপের লড়াইয়েও সিটিজেনদের চ্যাম্পিয়ন করেন গার্দিওলা।
কিংবদন্তি কোচের বর্ণিল ক্যারিয়ারের কেটে গেছে ১৫ বছর। সিটিজেনদের সঙ্গে এখনও চুক্তির মেয়াদ বাকী। চুক্তি আছে ২০২৫ সালের জুন অবধি। থাকছে অনেক অর্জন বাড়ানোর সুযোগ। তার আগে এ মৌসুমেই আরও দুটি ট্রফি জিতে দ্বিতীয় ইংলিশ ক্লাব হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর ট্রেবল জয়ে চোখ গার্দিওলার। ট্রেবল তিনি বার্সায় থাকতে একবার জিতেছেন। লিওনেল মেসিকে সঙ্গী করে অবশ্য এক মৌসুমের সম্ভাব্য ছয় ট্রফির সবকটি জেতারও কৃতিত্ব আছে তার।








