ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর নির্বাচনে আমাদের বা সরকারের কোন প্রার্থী নেই। বুলবুল এবং তামিম ভাই দু’জনেই ক্রিকেটের লিজেন্ড। তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রমাণিত। এবারই প্রথম রাজনীতির বাইরে দুই যোগ্য ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব বিসিবি’র সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর পদের জন্য লড়ছেন, এটা ক্রীড়াঙ্গণের জন্য সুসংবাদ। এরকম যোগ্য সব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে সুবাতাস বইবে।
সোমবার ৮ সেপ্টেম্বর দেশের সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি ও এক সময়ের ক্রীড়া সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব কাজী নজরুল ইসলাম।
তাদের সঙ্গে বিসিবি সভাপতি ও বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম সভায় প্রবেশ করতেই ক্রীড়া সাংবাদিকদের মাঝে শুরু হয় গুঞ্জন। অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুই সাবেক ক্রিকেট নক্ষত্র আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও তামিম ইকবাল। এ নিয়ে নির্বাচনী মাঠে বাড়ছে উত্তাপ।
বিসিবি’র সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা আলি আসগার লবি বলেছেন, তামিম তাদের প্রার্থী, তার প্রতি বিএনপি’র সমর্থন আছে। ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে ক্রীড়া সাংবাদিকদের মতবিনিময়ে আরেক সভাপতি প্রার্থী বুলবুলের হাজিরা কী কিছুর ইঙ্গিতবাহী!
এমন সম্ভাবনা শুরুতেই উড়িয়ে দিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বললেন, ‘বিসিবি নির্বাচনে আমাদের বা সরকারের কোন প্রার্থী নেই। বুলবুল এবং তামিম ভাই দু’জনেই ক্রিকেট লিজেন্ড, তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রমাণিত। এবারই প্রথম রাজনীতির বাইরে দুই যোগ্য ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব বিসিবি’র সর্ব্বোচ ক্ষমতাধর পদের জন্য লড়ছে এটা ক্রীড়াঙ্গণের জন্য সুসংবাদ। এরকম যোগ্য সব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে সুবাতাস বইবে।
বিসিবি’র বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেছেন, এই সভায় বিসিবি সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ এসেছি। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর কী করেছি, কী করছি তা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে এসেছি। বিসিবি’র আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর দেব না। এ বিষয়ে কথা বলার এটা সঠিক মঞ্চ নয়।
বুলবুলের পূর্বসূরী ও সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া এবং কদিন আগে তার সঙ্গে ক্রীড়া উপদেষ্টার বৈঠক সম্পর্কে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ফারুক ভাইয়ের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তা নিয়ে আমার আক্ষেপ নেই। তিনি সেই সময় পরিস্থিতি সামলাতে পারছিলেন না। তবে তার সক্ষমতা, দক্ষতা নিয়ে আমার কোন সংশয় নেই। ক্রীড়াঙ্গণের যেকোন যোগ্য ব্যক্তির সঙ্গে আগ্রহ নিয়ে আলোচনায় বসতে আমি রাজি। সবার কথা শুনতে চাই, এরকম আলোচনায় নিজেও উপকৃত হই।
বিসিবি’র নির্বাচন ভালোয় ভালোয় শেষ করতে চান ক্রীড়া উপদেষ্টা
দেশের সবচেয়ে আলোচিত ক্রীড়া ফেডারেশন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর অক্টোবরের নির্বাচন ভালোয় ভালোয় শেষ হোক সেটা চান ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বললেন, নির্বাচনটা যাতে সুষ্ঠু ও বিধিবদ্ধভাবে সম্পন্ন হয় সে চেষ্টা করব।’
গত এক বছরে বিসিবি’র গঠনতন্ত্র ও অন্যান্য বিষয়ে সংস্কার সম্পর্কে তিনি বলেন, বিসিবি’র বর্তমান গঠণতন্ত্রে কিছু অসঙ্গতি এখনও রয়ে গেছে। অসঙ্গতি দূর করতে গঠণতন্ত্রে কিছু সংশোধনী আনতে চেয়েও সময়াভাবে ও কারো কারো অসহোযোগিতার কারণে পারিনি। আশা করি নির্বাচিত কমিটি এসে গঠণতন্ত্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে। এরমধ্যেই এবারের নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে, তারা কাউন্সিলরদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার পর প্রার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু আচরণবিধি তৈরি করবেন। তবে নির্বাচন নিয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ করব না, সুষ্ঠ নির্বাচন আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে
নারী ফুটবলারদের প্রাপ্তি নিয়ে আক্ষেপ
সরকার উপদেষ্টা হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এক বছর ধরে সামলাচ্ছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এই এক বছরে ক্রীড়া দলের সাফল্যে যেমন তৃপ্তি পেয়েছেন; আনন্দিত হয়েছেন, তেমনি আক্ষেপ আছে কোন কোন ক্ষেত্রে। এমনকি কোন কোন তারকার আচরণে বিব্রত হয়েছেন।
ক্রীড়া উপদেষ্টার মতে, সাফল্যের তুলনায় বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের প্রাপ্তি যথার্থ নয়। নারী ফুটবলারদের সাফল্য অনুযায়ী আমরা তাদের উপযুক্ত প্রাপ্য দিতে পারি না। এক্ষেত্রে বাজেট এবং তহবিল সংকট অন্যতম কারণ। এবার চেষ্টা করছি, ক্রীড়াখাতে বাজেটের বাড়তি বরাদ্দ নিয়ে আসার। ক্রীড়াক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্যের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সেই অর্থের সংস্থান আমাদের করতে হবে।
একসময় টাইগার ভক্ত হিসেবে স্টেডিয়ামে এসে খেলা দেখতেন। ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তারকাদের কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন তিনি, একসময় কয়েকজন তারকাকে যতটা ভক্তি শ্রদ্ধার চোখে দেখতাম, কাছাকাছি আসার পর তাদের কয়েকজনের কর্মকাণ্ড ও আচরণ লজ্জায় ফেলেছে। খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলার ফেরাতে সব ক্রীড়া ফেডারেশনের আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
পূর্বাচলে হবে বিসিবি সেন্টার অফ এক্সিলেন্স
পূর্বাচলে অধিগ্রহণ করা জমিতে তৈরি করা হবে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ক্রিকেটের প্রশিক্ষণকেন্দ্র ‘বিসিবি সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাতিল করা হয় পূর্বাচলে বিসিবি’র ‘দ্য বোট’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রকল্প। সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের অর্থ দিয়ে পূর্বাচলে ‘বিসিবি সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ নির্মাণের পাশাপাশি ফতুল্লায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ করার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, পূর্বাচলে বিশাল ব্যয়ে স্টেডিয়াম নির্মাণের চেয়ে আমরা সেন্টার অফ এক্সিলেন্স, ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সংস্কার এবং দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোর সংস্কার কাজকে গুরুত্ব দিচ্ছি।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, সংস্কার কাজের পর ফতুল্লায় শিগগিরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরবে।








