এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়। সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৬৩ দশমিক ৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দিনের শুরুতে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৮৯ দশমিক ৩৯ ডলার ছুঁয়েছিল।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৬৯ দশমিক ৯০ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি তীব্র হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এতে হঠাৎ করেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে এই উত্থান দেখা গেছে।
গত শনিবার ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক বাড়ানোর প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি পায়। এতে ডেনমার্কের বিশাল আর্কটিক দ্বীপের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিরোধ আরও বাড়ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা রবিবার একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছেছেন যাতে ট্রাম্পকে শুল্ক আরোপ থেকে বিরত রাখা যায় এবং প্রয়োজনে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায়।
স্টোনএক্সের সিনিয়র বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা স্বর্ণের দাম বাড়ার একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি বাস্তব এবং এটি ন্যাটো ও ইউরোপের মধ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্যহীনতার নির্দেশ দিচ্ছে।
শুল্ক হুমকির প্রভাবের কারণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে নিরাপদ আশ্রয়স্থল স্বর্ণ, ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের দিকে। এর ফলে মার্কিন স্টক ফিউচার ও ডলারের দাম কমেছে, যা বাজারে ঝুঁকি-প্রতিরোধী পদক্ষেপকে জোরদার করেছে।
নিম্ন সুদের হার এবং ভূ-রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল সম্পদ ভালো ফল দেয়।
এদিকে স্পট রুপার দামও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯২ দশমিক ৯৩ ডলারে পৌঁছেছে। যা আগের সেশনে পৌঁছেছিল রেকর্ড সর্বোচ্চ ৯৪.০৮ ডলারে।
ওসিবিসির কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, রুপার মধ্যমেয়াদি চিত্র এখনও ভালো অবস্থায় আছে। এটি মূলত স্থিতিশীল শিল্প চাহিদা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদার কারণে সমর্থিত। তবে সাম্প্রতিক বৃদ্ধি কিছুটা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়। স্বর্ণ-রুপার অনুপাত ২০২৫ সালের শেষে সর্বোচ্চ ১০৫ থেকে সর্বনিম্ন ৫০-এ নেমেছে, যা স্বর্ণের তুলনায় রুপার শক্তিশালী কর্মক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্ববাজারে উত্থান দেখা গেছে অন্যান্য ধাতুর দামেও। স্পট প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতি আউন্স বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ৮০৮ দশমিক ৪৬ ডলারে।








