সাভার থানার খুব কাছে একটি পরিত্যক্ত কিমিউনিটি সেন্টারের ভবনে মিলছে একের পর এক লাশ। গেল ৩ মাসে ওই ভবন থেকে মোট ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাভারে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সম্রাট নামের মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে সাভার মডেল থানা থেকে তাকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। সাভার মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে আদালতে পাঠানোর বিষয়টি জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম।
আরাফাতুল ইসলাম বলেন, সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে পাঁচজন ও সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে একজনসহ মোট ছয়জনকে হত্যা করেন তিনি। ছয়জনের মধ্যে এক জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকি পাঁচজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। আদালত রিমান্ড মনজুর করলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে কি কারণে তিনি ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
এর আগে গতকাল রাতে সাভার মডেল থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে দিয়াশলাই মাফলার ও মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা তদন্ত করছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত সম্রাট ভবঘুরে, তিনি সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভিতরে রাতে থাকতেন। সিরিয়াল এই কিলারকে গ্রেফতার করায় স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
গতকাল রোববার আগুনে পোড়া দুই নারীর লাশ উদ্ধারের পর সিআইডির ক্রাইম সিন টিম পোড়া মরদেহ দুটিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকা আতঙ্কিত ছিল। পুলিশের অভিযানে এইসব হত্যা রহস্যের জট খুলেছে বলে দাবী পুলিশের। পুলিশের ভাষ্যমতে ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো এক নীরব ঘাতক মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’কে রোববার বিকেল সাড়ে ৩ টায় আটক করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। স্থানীয় এক সাংবাদিকের আগের দিনের করা একটি ভিডিও ও হত্যাকাণ্ডের দিনের একটি সিসিটিভি ফুটেজই ধরা পড়েন সম্রাট।
পুলিশ সূত্র জানায়, একটি ভিডিও ও কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সন্দেহজনকভাবে এক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তার চলাফেরা, সময় ও অবস্থান মিলিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে ওই ভবঘুরে ব্যক্তির দিকেই। এরপরই তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একই জায়গায় রোববারের দুইটি হত্যাকাণ্ড, পূর্বের পৃথক তিনটিসহ মোট পাঁচটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে সে। বর্তমানে তাকে থানায় রেখে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন যাকে দেখি রাস্তায় হাটাহাটি করতে, চুপচাপ বসে থাকতে, কখনো বিড়বিড় করে কথা বলতে, সেই লোক যে একের পর এক মানুষ হত্যা করেছে-এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।”
পরপর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যখন সাভারজুড়ে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা চরমে ছিল। পুলিশের অভিযানে আপাত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এলাকাবাসী। তারা দাবি জানিয়েছেন-এই নৃশংস খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি একসময় ছিল আনন্দ ও উৎসবের ঠিকানা, সেই জায়গাই এখন সাক্ষী হয়ে উঠল একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের। সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি জেলা পরিষদ, সাভার পৌরসভা ও জেলা প্রশাসকের মালিকানা দ্বন্দ্বে গেল দেড় দশক ধরে অচল ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।







