ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—তারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাই মানে না। তবে দীর্ঘ দুই বছরের গাজা যুদ্ধের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। নতুন করে ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও পর্তুগাল ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। খুব শিগগিরই ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একই পথে হাঁটতে পারে।
কত দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে?
আজ (২২ সেপ্টেম্বর) সোমবার প্রকাশিত আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে অন্তত ১৪৫টি দেশ এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য ও কানাডা—যারা প্রথম জি৭ রাষ্ট্র হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নিল। এর আগে আরব দেশগুলো, প্রায় সব আফ্রিকান ও লাতিন আমেরিকার রাষ্ট্র, ভারত ও চীনসহ অধিকাংশ এশীয় দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আলজেরিয়া ১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর, ইয়াসির আরাফাত নির্বাসনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ২০১০ থেকে ২০১১ সালে এক দফা, আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর আরেক দফা দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
কারা স্বীকৃতি দেয়নি?
কমপক্ষে ৪৫টি দেশ এখনও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এর মধ্যে রয়েছে— ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা। এশিয়ায় জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুর। আফ্রিকায় ক্যামেরুন, লাতিন আমেরিকায় পানামা এবং ওশেনিয়ার বেশিরভাগ দেশ।
ইউরোপ সবচেয়ে বিভক্ত মহাদেশ। অর্ধেকের মতো দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে, বাকিরা দেয়নি। ২০১৪ সালে সুইডেন প্রথম পশ্চিম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে নরওয়ে, স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া স্বীকৃতির ঘোষণা দেয়। সর্বশেষ যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালও এই তালিকায় যোগ হয়েছে। তবে জার্মানি ও ইতালি এখনই এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলে জানিয়েছে।
এই স্বীকৃতির অর্থ কী?
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ রোমাঁ লে বোয়েফের মতে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া আইন ও রাজনীতির মাঝামাঝি এক জটিল প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক আইনে এর কোনো কেন্দ্রীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা নেই। কোনো দেশ চাইলে স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে স্বীকৃতি দিতে পারে। স্বীকৃতি দেওয়া মানে রাষ্ট্র তৈরি হয়ে গেল, এমন নয়। আবার স্বীকৃতি না দেওয়ায় রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকারও হয় না। তবে প্রতীকী ও রাজনৈতিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অনেক।
ফরাসি-ব্রিটিশ আইনবিদ ফিলিপ স্যান্ডস আগস্টে নিউইয়র্ক টাইমসে লিখেছেন, অনেকের কাছে এটা প্রতীকী মনে হলেও আসলে এক ধরনের গেম চেঞ্জার। কারণ একবার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলে আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে সমান পর্যায়ে দাঁড় করানো হয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রতীকী ও রাজনৈতিক প্রভাব: বিশ্বে ফিলিস্তিনের বৈধ রাষ্ট্র পরিচয়কে জোরদার করে।
আন্তর্জাতিক চাপ: ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ায়।
দুই রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তি: আলোচনায় ফিলিস্তিনকে সমান পক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
বর্তমানে জাতিসংঘের তিন-চতুর্থাংশ দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ কিছু প্রভাবশালী দেশ স্বীকৃতি না দেওয়ায় দুই রাষ্ট্র সমাধান এখনও অনিশ্চিত। তবুও সাম্প্রতিক স্বীকৃতিগুলো ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী করে তুলেছে।







