প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপির আকার ৪৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, অথচ ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে এর আকার ছিল মাত্র ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
‘সাসটেইনেবল এন্ড স্মুথ ট্রান্সলেশন ফর দ্য গ্র্যাজুয়েটিং কোহোর্ট অব ২০২১’ শীর্ষক এক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। কাতার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএনসিসি) লাও পিডিআর এবং নেপালের সাথে যৌথভাবে বাংলাদেশ জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের এর পাশে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিডিপির হিসাবে বাংলাদেশ বিশ্বে এখন ৩৫তম বৃহত্তর অর্থনীতির দেশ এবং দেশের মাথাপিছু আয় ২০০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ২০২২ সালে ২,৪২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশের জিডিপি গত এক দশকে গড়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের অধিক হারে টানা বৃদ্ধি পেয়েছে।কোভিড-১৯ মহামারীর ঠিক আগে আমাদের জিডিপির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং এমনকি এই মহামারীকালে ২০২০-২১ অর্থ বছরে এদেশের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ঘটেছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
তিনি বলেন, কেবল এক দশকেই দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে দাড়িয়েছে ২০ শতাংশ। শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে কমে ২১ এ দাড়িয়েছে। তাছাড়া গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে এবং শিক্ষার হার বেড়ে দাড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ২ শতাংশে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ‘ভিশন ২০২১’ এর ভিত্তিতে ২০০৯ সালে সরকারের দায়িত্ব নিয়েছি। আমরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ দেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছিলাম। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা প্রতিটি খাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
সরকার প্রধান বলেন, অন্যান্য দেশের মতো আমাদের অর্থনীতিও মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপরেও আমরা এই রোগের বিস্তার রোধে যথাসময়ে বাস্তব ভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে সমর্থ হয়েছি এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করেছি। সরকার এসময় ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ২০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এতে প্রায় ৭৩ দশমিক ২ মিলিয়ন মানুষ এবং ২,১৩,৫০০ উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সরাসরি উপকৃত হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দেশের অবকাঠামোর উন্নয়নের ওপরও জোর দিচ্ছে এবং গত বছর সরকার তার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা বহুমূখী সেতু নির্মাণ করে তা জনগণের জন্য খুলে দিয়েছে।সেতুটি আমাদের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের এক-তৃতীয়াংশের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এছাড়াও এটা আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও সহজ করেছে।
সম্মেলনে এসময় আরও বক্তৃতা রাখেন নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী ‘নারায়ণ কাজি শ্রেষ্ঠ’ ও লাও পিডিআর এর উপ-প্রধানমন্ত্রী ‘সালেমক্সে কোমাসিথ’ ।








