গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার লক্ষ্যে ইসরায়েলি বাহিনী স্কুল-আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ভবন পরিকল্পিতভাবে ভেঙে দিচ্ছে। এছাড়াও ইসরায়েলি হামলা ও অনাহারে গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
রোববার ১৪ সেপ্টেম্বর কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা শহরে আক্রমণ তীব্র করেছে, স্কুল-আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ভবন পরিকল্পিতভাবে ভেঙে দিয়েছে। গাজা সিটিতে শনিবার ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
প্যালেস্টাইনের সিভিল ডিফেন্সের মতে, নিরলস বোমাবর্ষণে গাজা সিটিতে ৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুসহ সাতজন মারা গেছে, যার ফলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অনাহারে মৃতের সংখ্যা ৪২০ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ১৪৫ জন শিশুও রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ইসরায়েলি বাহিনী নগর কেন্দ্র দখলের জন্য পরিষ্কার করার লক্ষ্যে গাজা সিটিতে দ্রুত হামলা শুরু করেছে। ক্ষুধার্ত ও ভীত ফিলিস্তিনিদের তাদের জীবনের জন্য পালিয়ে যাওয়ার সতর্ক করে লিফলেটও ফেলেছে।
আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ যিনি গাজা সিটি থেকে রিপোর্ট করেন, তিনি বলেছেন, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো প্রতি ১০ থেকে ১৫ মিনিটে আবাসিক ভবন এবং জনসাধারণের স্থাপনাগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে বোমা ফেলছে। প্রায়শই তাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়ও দিচ্ছে না। গাজা শহরে এখনও প্রায় নয় লাখ মানুষ আটকে আছে।
আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান ডা. মুহাম্মদ আবু সালমিয়া বলেছেন, বাসিন্দারা গাজা শহরের পূর্ব থেকে পশ্চিমে চলে যাচ্ছেন, কিন্তু খুব কম সংখ্যক মানুষ দক্ষিণে পৌঁছাতে পেরেছেন।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা, ইউএনআরডব্লিউএ শনিবার জানিয়েছে, গাজার ৮৬ শতাংশ হয় সামরিকীকরণ অঞ্চল অথবা বাস্তুচ্যুতির হুমকির সম্মুখীন।








