গাজা উপত্যকার ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ফুটবল ফিরেছে মাঠে। দুবছরের বেশি সময় পর প্রথমবার ‘ফাইভ-এ-সাইড’ টুর্নামেন্ট আয়োজিত হয়েছে গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায়। ইট-পাথরের স্তূপে ঘেরা জরাজীর্ণ মাঠে জাবালিয়া ইয়ুথ ও আল-সাদাকা মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচ ড্র হয়েছে।
ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে কৃত্রিম ঘাসের একটি ছোট মাঠে গড়িয়েছে ম্যাচ। যা স্থানীয়দের কাছে হয়ে উঠেছে আশা ও টিকে থাকার প্রতীক। জাবালিয়া ইয়ুথের ২১ বর্ষী ইউসুফ জেন্দিয়া জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরে অনুভূতি ছিল মিশ্র।
প্রতিদিনের বাস্তবতা তুলে ধরে ইউসুফ বলেছেন, ‘সকালে মানুষ পানি, খাবার, রুটি খোঁজে। জীবন খুব কঠিন। কিন্তু দিনের কিছুটা সময় থাকে, যখন মাঠে এসে খেলতে পারেন, ভেতরের আনন্দটা প্রকাশ করতে পারেন। যা আমার কাছে বিভ্রান্ত লাগছিল— খুশিও, আবার কষ্টও। মাঠে এলে অনেক সতীর্থকে মিস করি- কেউ নিহত, কেউ আহত, কেউ চিকিৎসার জন্য বাইরে।’
অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির পর চার মাস পেরিয়ে গেলেও পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হচ্ছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। উপত্যকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, ২০ লাখের বেশি মানুষ সংকীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছেন, অনেকে অস্থায়ী তাঁবু বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বাস করছেন।
একসময় ৯ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ইয়ারমুক স্টেডিয়াম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সেটি পরে ইসরায়েলি বাহিনীর অস্থায়ী আটক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখন সেখানে সাদা তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো।
In a wasteland of ruined buildings and the rubble of Gaza City, soccer returns to the Gaza Strip, with the first organized tournament in more than two years https://t.co/4NDAfWr8SE pic.twitter.com/FOv4g9kGXW
— Reuters (@Reuters) February 10, 2026
এই প্রেক্ষাপটে টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ভেঙে পড়া দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে, নতুন করে বেড়া বসিয়ে এবং পুরনো কৃত্রিম ঘাস পরিষ্কার করে মাঠ প্রস্তুত করেছে।
বেইত হানুনের খেলোয়াড় আমজাদ আবু আওদা বলেছেন, ‘আমরা একটা বার্তা দিতে চেয়েছি- যত ধ্বংসই হোক, যত যুদ্ধই হোক, আমরা খেলব, আমরা বাঁচব। জীবন চলতেই হবে।’








