জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও গণস্বাক্ষরের আয়োজন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। যদি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ব্যতিত বাহিরের কাউকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে ‘গেটলক’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচতলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান। এই দাবিতে গতকাল বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনে ছয় হাজারের বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। স্বাক্ষর সংগ্রহ এখনো চলামান রয়েছে।
বিক্ষোভ মিছিলটি শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে কলা ভবন ও বিজ্ঞান অনুষদ প্রদক্ষিণ করে রফিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘ভাড়াটিয়া ভিসি আসলে, গেইটে তালা ঝুলবে’, ‘জবি থেকে ভিসি চাই, দিতে হবে-দিতে হবে’ শ্লোগান দেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন নির্দলীয় উপাচার্য দিতে হবে। সকলপ্রকার ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে যিনি মেরুদণ্ড সোজা করে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন, এ রকম উপাচার্য দিতে হবে। জবির বাহির থেকে উপাচার্য আসলে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হবে। এ সময় বহিরাগত উপাচার্যকে কোন ধরণের সহযোগিতা না করারও ঘোষণা দেন তারা।
ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন বলেন, আমরা যে দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, সেই দাবি পূরণ করে ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ। আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিগত আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ঢাকায়। বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কারে তাদের যে দাবি সেগুলোর মাঝে নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে হতে গত ১৯ বছরে কোন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রত্যেকবার এই ভিসি নিয়োগের বিষয়ে একটি অপশক্তি কাজ করে। এই বার যদি বাহির থেকে ভিসি নিয়োগ হয়, গেটে তালা ঝুলবে। ছাত্ররা নিজেদের অধিকার আদায় করা শিখে গেছে। এখন আর কোন ধরনের অন্যায়, অবিচার, জুলুম সহ্য করা হবে না। ছাত্র জনগণ রক্ত দিতে শিখে গেছে। এখন আমাদের একটাই দাবি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে থেকে ভিসি চাই।







