গাজা শহরের আল শিফা হাসপাতাল অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। হাসপাতালটিতে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। এই অবস্থায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে সাতজন শিশুকে উষ্ণ রাখার জন্য একত্রিত করে রাখা হয়েছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, সময়ের আগে জন্ম নেওয়া ৩৯ জনের মধ্যে সাতটি শিশু রয়েছে যাদের প্রত্যেকের ওজন ১.৫ কেজির কম। এই শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইনকিউবেটরের প্রয়োজন হয়। কিন্তু জ্বালানি না থাকায় ইনকিউবেটরের পরিবর্তে তাদের সাধারণ বিছানায় একসাথে রাখা হয়েছে যাতে তারা কিছুটা উষ্ণ থাকতে পারে।
হাসপাতালটির পেডিয়াট্রিক বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ তাবাশা বলেন, গতকাল এখানে ৩৯ জন বাচ্চা ছিল। আজ আছে ৩৬ জন। আমি বলতে পারছি না তারা কতক্ষণ বাচবে। আগামী এক ঘণ্টার মধ্যে আমরা আরও দুটি বাচ্চাকে হারাতে পারি। বুলেট এবং মিসাইল এখানে বাচ্চাদের মৃত্যুর একমাত্র কারণ নয়।
তাবাশা বলেন, ইনকিউবেটর দ্বারা প্রদত্ত প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাবে শিশুরা একাধিক ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের দুধ জীবাণুমুক্ত করার কোনো উপায়ও নেই। শিশু বিভাগের ডা. আহমেদ এল মোখাল্লালাতি বলেছেন, তারা খুব খারাপ অবস্থায় আছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আপনি ধীরে ধীরে তাদের মেরে ফেলবেন। তাদের বাঁচাতে হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, দুধ এবং বোতলের টিটের জন্য জীবাণুমুক্তকরণ এবং সহায়তা মেশিনের প্রয়োজন হবে।
অবরুদ্ধ আল শিফা হাসপাতালে ডিজেল, খাবার, পানি, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। হাসপাতালটিতে এখনও ৬৫০ জনেরও বেশি রোগী রয়েছেন। হাসপাতালটির নিচে হামাসের গোপন টানেল এবং ভূগর্ভস্থ সদর দফতর রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে হাসপাতালটি ট্যাংক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।







