জনপদ

দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাস নেই, আমিনবাজারে চরম জনদুর্ভোগ

গ্যাস সংকটে জ্বলন্ত চুলা, অস্বাভাবিক জনজীবন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

একজনের হাত দিয়ে গ্যাস চুলার জ্বলন্ত অংশ দেখানো হয়েছে, গ্যাস সংকটের কারণে জীবনযাত্রা ব্যাহত।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় গত দুইসপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। বিকল্প উপায়ে কেউ কেউ রান্নার ব্যবস্থা করছেন, আর কারও ভরসা হোটেল রেস্তোঁরা। গ্যাস না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে সিএনজি স্টেশনগুলো। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে অন্যান্য ব্যবসা বাণিজ্যেও।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাইপলাইনে লিকেজ হওয়ায় প্রায় দু’ সপ্তাহ ধরে গ্যাস না থাকায় বিভিন্ন বাসা বাড়িতে নারীরা ভিন্ন উপায়ে রান্নাবান্না করার চেষ্টা করছেন। এতে রান্না খাওয়ায় সমস্যার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

বড়দেশী বাজারে বসবাসরত এক নারী বলেন, একবেলা রান্না করে দুই দিন খাই। লাকড়ির অভাবে রান্না করতে পারি না। বৃষ্টির মধ্যে লাকড়ি দিয়ে রান্না করা যায় না। আমরা খুব ভোগান্তিতে আছি। না খেয়ে তো থাকা যায় না। এতদিন হয়ে গেল, গ্যাসের লাইন ঠিক করতে পারল না তিতাস। আমরা সাধারণ মানুষ খুব ভোগান্তিতে আছি। দ্রুত গ্যাসের লাইন ঠিক করা দরকার। আমার ছেলে না খেয়ে স্কুলে পরীক্ষা দিতে গেছে। এভাবে আর কতদিন চলবে?

স্থানীয় আরেক নারী রোমানা আক্তার বলেন, আমরা আজ রান্না করতে পারিনি। সকাল থেকে না খাওয়া। এতদিন হয়ে গেল গ্যাস বন্ধ, কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি নেই। গ্যাসের লাইনে সমস্যা হলে এটা দ্রুত ঠিক করার সক্ষমতা তাদের থাকবে না কেন? আমাদেরকে কি গ্যাস ফ্রি দেওয়া হয়? চড়া মূল্য নেওয়া হলেও সেবার বেলায় এমন গাফিলতি থাকবে কেন? বাচ্চাদের মুখে খাবার দিতে পারি না। আমার শ্বশুর অসুস্থ মানুষ। তাকেও নিয়মিত খাবার দিতে পারি না। ঠিকমতো ওষুধ খেতে পারে না। আমরা আর কতদিন না খেয়ে থাকব। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা জবাব চাই।

এলাকাবাসী বলছেন, আমিনবাজার এলাকার প্রধান লাইনে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন ধরে যাওয়ায় নিরাপত্তার কারণে গ্যাস সংযোগ লিকেজ করে রেখেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। এতে দুর্ভোগে আছেন ১০ এলাকার লক্ষাধিক মানুষ।

সোহেল রানা নামের এক যুবক বলেন, ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত গ্যাস নেই। সিএনজি স্টেশনগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে গ্যাসচালিত সব ধরনের যানবাহনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকায় বলতে গেলে বড় ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে তিতাস কর্তৃপক্ষের গড়িমসিতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছেন।

তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছে, দুর্ঘটনার পর মেরামত কাজ শুরু করেছেন তারা। কিন্তু পাইলিংয়ের সময় নির্দিষ্ট জায়গায় অতিরিক্ত বালু থাকায় এবং ঘন ঘন লোডশেডিং থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে। তবে দুয়েক দিনের মধ্যে সংকট সমাধান হয়ে যাবে।

তিতাসের ঢাকা মেট্রো উত্তর জরুরী গ্যাস নিয়ন্ত্রণ শাখার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রিফাত আব্দুল্লাহ বলেন, একটা জায়গায় পাইপ আছে। পাইপটা লোকেট করে ওই জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে। ওই দিক দিয়ে প্রচুর পরিমাণে পানি ও বালু আসছে। আপাতত সেখানে তিন মিলিমিটার পাইপ দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, দুয়েক দিনের মধ্যে কাজ কমপ্লিট হয়ে যাবে।

তিতাস গ্যাসের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, সাভারের আমিনবাজার এলাকায় লিকেজের কারণে গ্যাস লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে। লাইন বন্ধ না রাখলে আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। তবে পাইপলাইনে কাজের সময় সেখানে পানি ঢুকে যাচ্ছে। এজন্য সময় লাগছে। শিগগিরই সমাধান হয়ে যাবে।

বিষয়:আমিনবাজার গ্যাস সংকট জনদুর্ভোগ তিতাস গ্যাস সাভার

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…