নৌবাহিনী সদস্য ট্রোম্যান খীসা‘র সামরিক মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসা’র অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া রাঙ্গামাটি জেলার নিজ গ্রামে যথাযোগ্য সামরিক মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ নৌবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার এবং পরে মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই সাহসী নৌ-সদস্যের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
প্রয়াত ট্রোম্যান খীসার মৃত্যুতে নৌবাহিনী প্রধান গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
ট্রোম্যান খীসা গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েনকৃত ব্যানএফএমইউ-১১-এ কর্তব্যরত অবস্থায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে ভারতীয় ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জাতিসংঘ মিশনে তার অসামান্য অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করতে জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে বিশেষ প্রতিনিধি এবং দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত শান্তিরক্ষা মিশনের প্রধান এই সাহসী নৌ-সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
গতকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নৌ-সদস্যের মরদেহ ঢাকা বিমান বন্দরে নিয়ে আসা হয় এবং তার পৈতৃক নিবাস রাঙ্গামাটি জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আজ সোমবার বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি ও প্রথা অনুযায়ী তার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
এ সময় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাগণ, সামরিক-বেসামরিক সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ, সহকর্মী, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর প্রয়াত ট্রোম্যান খীসা’র স্ত্রীর হাতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও জাতিসংঘের পতাকা, ক্যাপ ও মেডেল তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, প্রায়ত ট্রোম্যান খীসা ১৯৮৭ সালের ১৩ জুন রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর-এর রামহরিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৬ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে নাবিক হিসেবে যোগদান করেন।






