লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার মধ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (ইউনিফিল)-এর এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
ইউনিফিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদচিত আল-কুসাইর এলাকার একটি অবস্থানে বিস্ফোরণে ওই শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়া নিশ্চিত করেছে, তাদের এক শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন এবং তিনজন আহত হয়েছেন, যা “পরোক্ষ গোলাবর্ষণের” ফলে ঘটেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, হামলার উৎস এখনো নিশ্চিত নয় এবং এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
জাতিসংঘের উদ্বেগ
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। ইউনিফিল জানিয়েছে, মার্চের শুরু থেকে তাদের অবস্থান একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে।
সংঘাতের বিস্তার
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করার পর সংঘাত লেবাননেও ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করতে চায়, যা সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে লড়াইয়ের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে “নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা”—যেখানে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি বাহিনীকে অগ্রসর হতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বেইরুতে নতুন হামলা
সোমবার বেইরুতের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যা শুক্রবারের পর প্রথম আক্রমণ। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যদিও এর কোনো প্রমাণ দেয়নি। এই হামলার ফলে দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপকভাবে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
মানবিক সংকটের আশঙ্কা
জাতিসংঘ জানিয়েছে, মার্চের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে লেবাননে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে।








