যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যায়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময়ে জ্বালানি বাজারেও বড় পরিবর্তন আসে। বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দামও প্রায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৮০ ডলারে।
তবে চলমান উত্তেজনা শুরুর আগে তুলনায় তেলের দাম এখনও বেশি রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে প্রতি ব্যারেল তেল প্রায় ৭০ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হওয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়, যা দাম বাড়ার অন্যতম কারণ ছিল।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছে, শর্ত হিসেবে ইরানকে হরমুজ প্রণালি নিরাপদভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হামলা বন্ধ হলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে এবং নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে জ্বালানির দামে চাপ কমার পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও চাঙ্গাভাব ফিরে এসেছে।







