সম্প্রতি সময় আইসল্যান্ড, ইটালি, মেক্সিকোসহ বিশ্বের অনেক জায়গায় আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরিত হতে দেখা গেছে। এত ঘনঘন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ অনেকের মনেই শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। তবে বিজ্ঞান এই বিষয়ে কী বলছে?
বিজ্ঞান ভিত্তিক ওয়েবসাইট ম্যাশাবল জানিয়েছে, পৃথিবী হল আগ্নেয়গিরির রাজ্য। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের ‘গ্লোবাল ভলক্যানিজম প্রোগ্রাম’ বলছে, স্বাভাবিকভাবে দিনে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দিনে গড়ে ৪৬ বার অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছে। তাই সংখ্যাটি একেবারেই স্বাভাবিক।
১৯৯১ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে ৫৬ থেকে ৮৮টি আগ্নেয়গিরি আমাদের গ্রহে বিস্ফোরিত হয়েছে। গত ১২ হাজার বছরে, প্রায় ১,৩৫০টি আগ্নেয়গিরি সক্রিয় রয়েছে।
অগ্ন্যুৎপাত শুধুমাত্র যে স্বাভাবিক ঘটনা তা নয় বরং পৃথিবীর আকৃতির পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। পৃথিবীর বেশিরভাগ আগ্নেয়গিরির উৎপত্তি সমুদ্রপৃষ্ঠের নীচে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপের মতে, লক্ষ লক্ষ বছর ধরে আগ্নেয়গিরির নিঃসরণ থেকে গ্যাসের নির্গমন পৃথিবীর প্রাচীনতম মহাসাগর এবং বায়ুমণ্ডল তৈরি করেছিল। তবে অগ্ন্যুৎপাতের সাথে ভূমিকম্প, বিস্ফোরণ এবং মাটিতে ফাটল দেখার সম্পর্ক রয়েছে। আইসল্যান্ড অগ্ন্যুৎপাতের শঙ্কা দেখা দেওয়ায় গ্রিন্ডাভিক শহর খালি করা হয়েছে। সেখানকার রাস্তায় বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ কি বাড়ছে?
গ্লোবাল ভলক্যানিজম প্রোগ্রাম জানিয়েছে, প্রযুক্তির ফলে আমরা আগের থেকে আরও বেশি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত লক্ষ্য বা পর্যবেক্ষণ করতে পারি, কিন্তু এর মানে এই নয় যে এর কার্যকলাপ বাড়ছে। আমরা এমন কোন প্রমাণ দেখতে পাইনি যা নির্দেশ করে যে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ আসলে বাড়ছে।

গত কয়েক শতাব্দীতে, জনসংখ্যা এবং পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতি বছর সক্রিয় আগ্নেয়গিরির সংখ্যাও বেড়েছে। মানুষ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে এবং পর্যটনও বেড়েছে। ফলে তারা আগ্নেয়গিরির কাছাকাছি যাবার সুযোগও পাচ্ছে। কোথাও অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটলে প্রযুক্তির কল্যাণে তা সকলের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারছে।
সুতরাং বিশ্বব্যাপী আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের যে কথা শোনা যাচ্ছে তাতে বিশেষভাবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটা স্বাভাবিক ঘটনা এবং প্রতিনিয়তই এটি ঘটে চলেছে।







