ফ্রান্সে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনার–এর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করায় তাকে তলব করে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারো রাষ্ট্রদূত কুশনারের বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কুশনার দাবি করেছিলেন, ফ্রান্সে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে তলব করা হলেও তিনি নিজে উপস্থিত না হয়ে একজন প্রতিনিধিকে পাঠান, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এরপর ফরাসি সরকার কুশনারের সঙ্গে মন্ত্রীদের সরাসরি সাক্ষাতের অনুমতি সাময়িকভাবে স্থগিত করে। তবে পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ফোনে আলোচনা হয় এবং ভবিষ্যতে সরাসরি সাক্ষাতে সম্মত হন তারা।
এই কূটনৈতিক বিরোধের সূত্রপাত গত সপ্তাহে। প্যারিসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করে, ফ্রান্সে ‘সহিংস বামপন্থী চরমপন্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে’ এই মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফরাসি সরকার।
এদিকে ২৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কোয়েন্টিন ডেরাঙ্কের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে। হামলার ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বামপন্থী দল লা ফ্রান্স আনবোউড–এর নেতা জঁ-লুক মেলানচন এই ঘটনায় দলের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, কুশনার ও ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপ ‘অকপট ও বন্ধুত্বপূর্ণ’ ছিল এবং উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মন্তব্যটি কূটনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও আলোচনার মাধ্যমে আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমেছে।








