বিভিন্ন প্রকার তদবির বাণিজ্য করার সময় রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের নাম মোবাইল ফোনের ট্রুকলার অ্যাপসে সেভ করত মো. সিরাজ। রাষ্ট্রপতি ছাড়াও সিরাজ বিভিন্ন এমপি ও মন্ত্রীদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করেছেন। প্রতারণা করাই তার পেশা।
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির নাম ব্যবহার করে নার্স নিয়োগের তদবিরের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেনকে এসএমএস দেন সিরাজ। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সন্দেহ হলে তিনি ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এরপরই বের হয়ে আসে প্রতারক সিরাজের থলের বেড়াল।
সম্প্রতি পাবনার সুজানগর থেকে মো. সিরাজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। ইনচার্জ এডিসি মো. সাইফুর রহমান আজদের নেতৃতে অভিযানটি পরিচালনা হয়।
আজ বুধবার মিন্টো রোডের নিজ কার্যালয়ে এসব কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
তিনি বলেন, সম্প্রতি সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোসা. নবীনা খাতুন ও মোসা. পারভীন আক্তারের নাম দিয়ে গ্রেপ্তার সিরাজ রাষ্ট্রপতি পরিচয় দিয়ে তাদের অন্যত্র বদলির জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনের মোবাইলে মেসেজ পাঠান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মেসেজ দুটি আমার কাছে পাঠান।
আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখি যে, রাষ্ট্রপতির মোবাইল থেকে অথবা রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মোবাইলে কোনো মেসেজ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ নার্সের বদলির সুপারিশের মেসেজটি ভুয়া। তদন্ততের এক পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে ভুয়া রাষ্ট্রপতি পরিচয় দেওয়া মো. সিরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যেভাবে প্রতারণা করতেন সিরাজ
ডিবি প্রধান বলেন: অষ্টম শ্রেণি পাশ সিরাজ প্রতারণার বিষয়টি ভালোভাবে লব্ধ করেছেন। সিম কেনার পর ট্রুকলারে নম্বর সেভ করতেন রাষ্ট্রপতির নামে। তদবিরের জন্য যে সিম দিয়ে সিরাজ তদবিরের জন্য মেসেজ দিতো সেই সিমটি পানিতে ফেলে দিতো।

এরপর তিনি থানায় জিডি করেন তার সিম হারিয়ে গেছে। নতুন সিম কিনে আবার সে একইভাবে প্রতারণা করে ফেলে দিয়ে আবার সিম কিনে প্রতারণা করতেন। সিম পানিতে ফেলে জিডি করার অর্থ হলো- পুলিশ তাকে ধরলে তিনি বলতেন তার সিম হারিয়ে গেছে, সে জিডিও করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
একাধিক এমপির ভুয়া ডিও লেটার দিয়েছেন সিরাজ
হারুন অর রশীদ বলেন, ভুয়া রাষ্ট্রপতির পরিচয় দিয়ে গ্রেপ্তার সিরাজ একাধিক এমপির ভুয়া ডিও লেটার দিয়েছেন। ডিও লেটার দিয়ে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বদলির জন্য তদবির করেছেন। সিরাজ অষ্টম শ্রেণি পাশ। করেছেন তিনটি বিয়ে। এরমধ্যে একজন নার্স, একজন শিক্ষক এবং ৮ মাস আগে তিনি আরেকটি নতুন বিয়ে করেছেন।
সিরাজ রাষ্ট্রপতির নাম কেন ব্যবহার করল- এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন: রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তিনি কেন রাষ্ট্রপতির নাম ব্যবহার করেছেন।
হারুন অর রশীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া এমপি, মন্ত্রী এমনকি সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির নাম ব্যবহার করে যারা প্রতারণা করেছে এমন সবাইকে ডিবি আইনের আওতায় এনেছে।







